হাবিপ্রবি সংঘর্ষ: নারী কেলেঙ্কারির জেরে দুই হলে দফায় দফায় হামলা, আহত ৫০+

সারোয়ার আলম রিজন, হাবিপ্রবি (দিনাজপুর)

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হিসেবে উঠে এসেছে হাবিপ্রবি সংঘর্ষ। একটি কথিত নারী কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল ও শহীদ আবরার ফাহাদ হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ইকোনমিকস বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ইকোনমিকস ক্লাবের ভিপি সুজন ইসলামকে ঘিরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু স্ক্রিনশটে এক নারীকে মেসেঞ্জারে উত্যক্ত করার অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ ঘিরেই মূলত হাবিপ্রবি সংঘর্ষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিষয়টিকে নৈতিক অবক্ষয়ের উদাহরণ হিসেবে দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, যা দ্রুত উত্তেজনায় রূপ নেয়।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের কিছু শিক্ষার্থী অভিযুক্ত সুজন ইসলামকে হল থেকে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি আবরার ফাহাদ হলের পরিচিত ও সমর্থকদের ডাক দেন বলে জানা যায়। এতে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এর জেরেই শুরু হয় ব্যাপক হাবিপ্রবি সংঘর্ষ, যা কয়েক দফায় রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলতে থাকে।

সংঘর্ষের এক পর্যায়ে জিয়া হলের শিক্ষার্থীরা আবরার ফাহাদ হলের শিক্ষার্থীদের হলের ভেতরে আটকে রেখে প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয়। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও মারামারির ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে অনেক শিক্ষার্থী আহত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নওশের ওয়ান বলেন, “সংঘর্ষ চলমান, এখন ব্যস্ত আছি, পরে বিস্তারিত জানানো হবে।” প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো কঠোর ব্যবস্থা বা তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা না আসায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

অভিযুক্ত সুজন ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাকে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই স্ক্রিনশট ছড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, “ইকোনমিকস ক্লাবের নির্বাচন সামনে রেখে আমাকে টার্গেট করা হয়েছে। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব স্ক্রিনশট তৈরি করা হয়েছে।” তিনি ইতোমধ্যে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে, যা শিক্ষার পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। হাবিপ্রবি সংঘর্ষ সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরোও পড়ুন – মাভাবিপ্রবিতে ভিসি পরিবর্তন নিয়ে গুঞ্জন, নিজস্ব শিক্ষক থেকে নিয়োগে শিক্ষার্থীদের জোর দাবি

হাবিপ্রবি সংঘর্ষ: নারী কেলেঙ্কারির জেরে দুই হলে দফায় দফায় হামলা, আহত ৫০+

এপ্রিল ২০, ২০২৬

সারোয়ার আলম রিজন, হাবিপ্রবি (দিনাজপুর)

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হিসেবে উঠে এসেছে হাবিপ্রবি সংঘর্ষ। একটি কথিত নারী কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল ও শহীদ আবরার ফাহাদ হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ইকোনমিকস বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ইকোনমিকস ক্লাবের ভিপি সুজন ইসলামকে ঘিরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু স্ক্রিনশটে এক নারীকে মেসেঞ্জারে উত্যক্ত করার অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ ঘিরেই মূলত হাবিপ্রবি সংঘর্ষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিষয়টিকে নৈতিক অবক্ষয়ের উদাহরণ হিসেবে দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, যা দ্রুত উত্তেজনায় রূপ নেয়।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের কিছু শিক্ষার্থী অভিযুক্ত সুজন ইসলামকে হল থেকে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি আবরার ফাহাদ হলের পরিচিত ও সমর্থকদের ডাক দেন বলে জানা যায়। এতে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এর জেরেই শুরু হয় ব্যাপক হাবিপ্রবি সংঘর্ষ, যা কয়েক দফায় রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলতে থাকে।

সংঘর্ষের এক পর্যায়ে জিয়া হলের শিক্ষার্থীরা আবরার ফাহাদ হলের শিক্ষার্থীদের হলের ভেতরে আটকে রেখে প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয়। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও মারামারির ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে অনেক শিক্ষার্থী আহত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নওশের ওয়ান বলেন, “সংঘর্ষ চলমান, এখন ব্যস্ত আছি, পরে বিস্তারিত জানানো হবে।” প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো কঠোর ব্যবস্থা বা তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা না আসায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

অভিযুক্ত সুজন ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাকে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই স্ক্রিনশট ছড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, “ইকোনমিকস ক্লাবের নির্বাচন সামনে রেখে আমাকে টার্গেট করা হয়েছে। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব স্ক্রিনশট তৈরি করা হয়েছে।” তিনি ইতোমধ্যে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে, যা শিক্ষার পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। হাবিপ্রবি সংঘর্ষ সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরোও পড়ুন – মাভাবিপ্রবিতে ভিসি পরিবর্তন নিয়ে গুঞ্জন, নিজস্ব শিক্ষক থেকে নিয়োগে শিক্ষার্থীদের জোর দাবি