মহেশপুর সীমান্তে অনুপ্রবেশ: নারী-শিশুসহ ৭ বাংলাদেশি আটক

সালেকুজ্জামান শামীম, মহেশপুর প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে অনুপ্রবেশের অভিযোগে নারী ও শিশুসহ মোট ৭ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রবিবার (২০ এপ্রিল) ভোররাত ও সকালে পৃথক দুটি অভিযানে মাটিলা ও খোসালপুর সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পারাপার ঠেকাতে বিজিবির নিয়মিত টহল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়। স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মহেশপুর সীমান্তে অনুপ্রবেশ বেড়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও সক্রিয় হয়েছে এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় রাত আনুমানিক ১২টার দিকে। মাটিলা বিওপির আওতাধীন সীমান্ত পিলার ৫২/২০-আর থেকে প্রায় ১০০ গজ অভ্যন্তরে বাংলাদেশের মাটিলা গ্রামের একটি ড্রাগন বাগানের পাশ দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশের সময় দুই নারীকে আটক করা হয়। হাবিলদার কে এম শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে টহল দল তাদের আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা সীমান্ত অতিক্রম করে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। এই ঘটনায় আবারও মহেশপুর সীমান্তে অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গটি সামনে আসে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

অপরদিকে, দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয় সকাল আনুমানিক ৬টার পর খোসালপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায়। সীমান্ত পিলার ৬০/১০৩-এস থেকে প্রায় ১৫০ গজ অভ্যন্তরে খোসালপুর গ্রামের একটি বাঁশবাগান থেকে ৫ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং ১ জন শিশু রয়েছে। তারা সবাই ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করছিল বলে বিজিবি নিশ্চিত করেছে। হাবিলদার গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বাধীন টহল দল এই অভিযান পরিচালনা করে। একই দিনে দুটি সফল অভিযানের মাধ্যমে মহেশপুর সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবির তৎপরতা স্পষ্ট হয়েছে।

আটককৃতদের মধ্যে পুরুষদের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। তারা হলেন— গোপালগঞ্জ জেলার বেদভিটা গ্রামের বিশ্বজিত বর (৪৬), নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার বেনদারচর গ্রামের তারেক মোল্যা (৪৬) এবং একই এলাকার শামীম কাজী (৩২)। বাকি নারী ও শিশুর পরিচয় যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনেক সময় দালাল চক্রের প্ররোচনায় সাধারণ মানুষ জীবিকার সন্ধানে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে থাকে, যা মহেশপুর সীমান্তে অনুপ্রবেশ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের অভিযোগে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সীমান্ত এলাকায় যে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম রোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে মহেশপুর সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের সচেতন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অনেক সময় অসচেতনতা কিংবা প্রতারণার শিকার হয়ে মানুষ অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করতে গিয়ে বিপদে পড়ে। এ কারণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং মহেশপুর সীমান্তে অনুপ্রবেশ বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় মহেশপুর একটি সংবেদনশীল অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত। এখানে নিয়মিতভাবে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালানসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই বিজিবি সদস্যরা দিনরাত টহল জোরদার করে রেখেছেন। তাদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সন্দেহজনক চলাফেরা বা দালাল চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

এদিকে, স্থানীয়দের একটি অংশ দাবি করেছেন, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে কর্মসংস্থানের অভাবও অনেককে অবৈধ পথে পা বাড়াতে বাধ্য করছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যার সমাধানে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথাও বলা হচ্ছে, যাতে দ্রুত অপরাধ শনাক্ত করা যায় এবং মহেশপুর সীমান্তে অনুপ্রবেশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

সবশেষে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যাতায়াত একটি দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাই কেউ যেন দালালদের প্ররোচনায় পড়ে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পথে না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরোও পড়ুন – মহেশপুর সীমান্তে মাদকসহ বাংলাদেশি ৩ যুবককে বিএসএফের আটক

মহেশপুর সীমান্তে অনুপ্রবেশ: নারী-শিশুসহ ৭ বাংলাদেশি আটক

এপ্রিল ২১, ২০২৬

সালেকুজ্জামান শামীম, মহেশপুর প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে অনুপ্রবেশের অভিযোগে নারী ও শিশুসহ মোট ৭ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রবিবার (২০ এপ্রিল) ভোররাত ও সকালে পৃথক দুটি অভিযানে মাটিলা ও খোসালপুর সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পারাপার ঠেকাতে বিজিবির নিয়মিত টহল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়। স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মহেশপুর সীমান্তে অনুপ্রবেশ বেড়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও সক্রিয় হয়েছে এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় রাত আনুমানিক ১২টার দিকে। মাটিলা বিওপির আওতাধীন সীমান্ত পিলার ৫২/২০-আর থেকে প্রায় ১০০ গজ অভ্যন্তরে বাংলাদেশের মাটিলা গ্রামের একটি ড্রাগন বাগানের পাশ দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশের সময় দুই নারীকে আটক করা হয়। হাবিলদার কে এম শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে টহল দল তাদের আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা সীমান্ত অতিক্রম করে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। এই ঘটনায় আবারও মহেশপুর সীমান্তে অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গটি সামনে আসে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

অপরদিকে, দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয় সকাল আনুমানিক ৬টার পর খোসালপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায়। সীমান্ত পিলার ৬০/১০৩-এস থেকে প্রায় ১৫০ গজ অভ্যন্তরে খোসালপুর গ্রামের একটি বাঁশবাগান থেকে ৫ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং ১ জন শিশু রয়েছে। তারা সবাই ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করছিল বলে বিজিবি নিশ্চিত করেছে। হাবিলদার গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বাধীন টহল দল এই অভিযান পরিচালনা করে। একই দিনে দুটি সফল অভিযানের মাধ্যমে মহেশপুর সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবির তৎপরতা স্পষ্ট হয়েছে।

আটককৃতদের মধ্যে পুরুষদের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। তারা হলেন— গোপালগঞ্জ জেলার বেদভিটা গ্রামের বিশ্বজিত বর (৪৬), নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার বেনদারচর গ্রামের তারেক মোল্যা (৪৬) এবং একই এলাকার শামীম কাজী (৩২)। বাকি নারী ও শিশুর পরিচয় যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনেক সময় দালাল চক্রের প্ররোচনায় সাধারণ মানুষ জীবিকার সন্ধানে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে থাকে, যা মহেশপুর সীমান্তে অনুপ্রবেশ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের অভিযোগে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সীমান্ত এলাকায় যে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম রোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে মহেশপুর সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের সচেতন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অনেক সময় অসচেতনতা কিংবা প্রতারণার শিকার হয়ে মানুষ অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করতে গিয়ে বিপদে পড়ে। এ কারণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং মহেশপুর সীমান্তে অনুপ্রবেশ বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় মহেশপুর একটি সংবেদনশীল অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত। এখানে নিয়মিতভাবে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালানসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই বিজিবি সদস্যরা দিনরাত টহল জোরদার করে রেখেছেন। তাদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সন্দেহজনক চলাফেরা বা দালাল চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

এদিকে, স্থানীয়দের একটি অংশ দাবি করেছেন, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে কর্মসংস্থানের অভাবও অনেককে অবৈধ পথে পা বাড়াতে বাধ্য করছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যার সমাধানে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথাও বলা হচ্ছে, যাতে দ্রুত অপরাধ শনাক্ত করা যায় এবং মহেশপুর সীমান্তে অনুপ্রবেশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

সবশেষে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যাতায়াত একটি দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাই কেউ যেন দালালদের প্ররোচনায় পড়ে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পথে না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরোও পড়ুন – মহেশপুর সীমান্তে মাদকসহ বাংলাদেশি ৩ যুবককে বিএসএফের আটক