রিজওয়ানুল করীম, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
খুলনার কয়রা উপজেলায় একটি মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসা কমিটি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দেয়াড়া অন্তাবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি গঠনে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি এবং গোপনে প্রভাব খাটিয়ে একজন রাজনৈতিক নেতার স্ত্রীকে সভাপতি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে এবং অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুশাসন নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) কয়রা প্রেসক্লাবের হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মাদ্রাসা কমিটি বিতর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অভিভাবক মোঃ মোসলেম সরদার। তিনি জানান, তার পরিবারের তিনজন সন্তান ওই মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত, ফলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে তিনি সরাসরি সংশ্লিষ্ট। লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, মাদ্রাসার সুপার মোঃ মোক্তারুজ্জামান ক্ষমতার অপব্যবহার করে গোপনে নিজের পছন্দের লোকজন দিয়ে কমিটি গঠন করেছেন, যা নিয়মবহির্ভূত ও প্রশ্নবিদ্ধ।
মোসলেম সরদার অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি গঠনের বিষয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি কিংবা অভিভাবকদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। এমনকি স্থানীয় অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তিও কমিটি গঠনের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন। বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি সুপারের কাছে গেলে তাকে গুরুত্ব না দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন। এ ধরনের আচরণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, যাকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করার চেষ্টা চলছে তিনি স্থানীয়ভাবে বসবাস করেন না এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ভোটারও নন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি একজন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রী। এ ঘটনায় মাদ্রাসা কমিটি বিতর্ক আরও গভীর হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্যক্তির মাদ্রাসার উন্নয়নে কোনো দৃশ্যমান অবদানও নেই, তবুও তাকে সভাপতি করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অন্যান্য অভিভাবকরাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি গঠনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সকল পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব নীতির ব্যত্যয় ঘটেছে বলে তারা মনে করছেন। এতে করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার সুপার মোঃ মোক্তারুজ্জামান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। সভাপতি পদের জন্য একাধিক প্রার্থীর নাম প্রস্তাব এসেছে এবং এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি দাবি করেন, নিয়ম মেনেই প্রক্রিয়া এগোচ্ছে এবং বোর্ডে অনুমোদনের জন্য এখনো কোনো নাম পাঠানো হয়নি। তার মতে, কমিটি গঠন নিয়ে এ ধরনের অভিযোগ প্রায়ই ওঠে, যা অনেক সময় বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।
তবে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা বলছেন, যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি গঠনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। এতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মাদ্রাসা কমিটি বিতর্ক এড়ানো সম্ভব হবে।
আরোও পড়ুন – বাগেরহাটে ভুয়া বিল কেলেঙ্কারি: ১৯ মাসে ৩ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ
কয়রায় মাদ্রাসা কমিটি নিয়ে বিতর্ক: আ’লীগ নেতার স্ত্রীকে সভাপতি করার অভিযোগ
রিজওয়ানুল করীম, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
খুলনার কয়রা উপজেলায় একটি মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসা কমিটি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দেয়াড়া অন্তাবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি গঠনে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি এবং গোপনে প্রভাব খাটিয়ে একজন রাজনৈতিক নেতার স্ত্রীকে সভাপতি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে এবং অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুশাসন নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) কয়রা প্রেসক্লাবের হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মাদ্রাসা কমিটি বিতর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অভিভাবক মোঃ মোসলেম সরদার। তিনি জানান, তার পরিবারের তিনজন সন্তান ওই মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত, ফলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে তিনি সরাসরি সংশ্লিষ্ট। লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, মাদ্রাসার সুপার মোঃ মোক্তারুজ্জামান ক্ষমতার অপব্যবহার করে গোপনে নিজের পছন্দের লোকজন দিয়ে কমিটি গঠন করেছেন, যা নিয়মবহির্ভূত ও প্রশ্নবিদ্ধ।
মোসলেম সরদার অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি গঠনের বিষয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি কিংবা অভিভাবকদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। এমনকি স্থানীয় অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তিও কমিটি গঠনের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন। বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি সুপারের কাছে গেলে তাকে গুরুত্ব না দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন। এ ধরনের আচরণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, যাকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করার চেষ্টা চলছে তিনি স্থানীয়ভাবে বসবাস করেন না এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ভোটারও নন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি একজন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রী। এ ঘটনায় মাদ্রাসা কমিটি বিতর্ক আরও গভীর হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্যক্তির মাদ্রাসার উন্নয়নে কোনো দৃশ্যমান অবদানও নেই, তবুও তাকে সভাপতি করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অন্যান্য অভিভাবকরাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি গঠনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সকল পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব নীতির ব্যত্যয় ঘটেছে বলে তারা মনে করছেন। এতে করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার সুপার মোঃ মোক্তারুজ্জামান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। সভাপতি পদের জন্য একাধিক প্রার্থীর নাম প্রস্তাব এসেছে এবং এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি দাবি করেন, নিয়ম মেনেই প্রক্রিয়া এগোচ্ছে এবং বোর্ডে অনুমোদনের জন্য এখনো কোনো নাম পাঠানো হয়নি। তার মতে, কমিটি গঠন নিয়ে এ ধরনের অভিযোগ প্রায়ই ওঠে, যা অনেক সময় বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।
তবে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা বলছেন, যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি গঠনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। এতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মাদ্রাসা কমিটি বিতর্ক এড়ানো সম্ভব হবে।
আরোও পড়ুন – বাগেরহাটে ভুয়া বিল কেলেঙ্কারি: ১৯ মাসে ৩ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ