ধামইরহাটে মাদক অভিযান: ১৯ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ আটক ১

কারিমুল ইসলাম মন্ডল,ধামইরহাট উপজেলা প্রতিনিধিঃ

নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৯ পিস নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ এক তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। জেলার পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশনায় পরিচালিত এই ধামইরহাটে মাদক অভিযান এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে চলমান জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবেই নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে এবং গোপন তথ্যের সহায়তায় এই অভিযান সফল হয়েছে বলে থানা সূত্র নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ০৬ মে ২০২৬ বুধবার রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটের দিকে ধামইরহাট থানার একটি চৌকস টিম উপজেলার ফতেপুর বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। ফতেপুর বাজারের “চাচা ভাতিজা ট্রেডার্স” নামের একটি দোকানে সন্দেহভাজন মাদক লেনদেনের তথ্য পেয়ে পুলিশ সেখানে অবস্থান নেয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে মোঃ হাসানুজ্জামান ওরফে হায়াত (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১৯ পিস নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, এই ধামইরহাটে মাদক অভিযান ছিল পরিকল্পিত ও তথ্যভিত্তিক।

গ্রেফতারকৃত হাসানুজ্জামান উপজেলার ফতেহপুর বাজার এলাকার মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে। থানা সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের একজন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, তার কারণে এলাকায় তরুণদের মধ্যে মাদকের বিস্তার বাড়ছিল। এ কারণে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের নজরদারি আরও জোরদার করা হয়। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ধামইরহাটে মাদক অভিযান সফলভাবে তাকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট বর্তমানে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্যের তালিকাভুক্ত। এটি মূলত শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধ হলেও অপব্যবহারের কারণে দেশে এর অবৈধ ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এই ধরনের নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। এ অবস্থায় নওগাঁ জেলা পুলিশ মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার অংশ হিসেবেই এই ধামইরহাটে মাদক অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ধামইরহাট থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পুলিশ বলছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষকেও মাদকবিরোধী তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এমন অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা বলছেন, এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে বাজারকেন্দ্রিক গোপন মাদক ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের মতে, পুলিশের চলমান উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে ধামইরহাটে মাদক বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।

আরোও পড়ুন – নাটোরে গাঁজা উদ্ধার: র‌্যাব-৫ এর অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ধামইরহাটে মাদক অভিযান: ১৯ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ আটক ১

মে ৭, ২০২৬

কারিমুল ইসলাম মন্ডল,ধামইরহাট উপজেলা প্রতিনিধিঃ

নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৯ পিস নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ এক তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। জেলার পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশনায় পরিচালিত এই ধামইরহাটে মাদক অভিযান এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে চলমান জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবেই নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে এবং গোপন তথ্যের সহায়তায় এই অভিযান সফল হয়েছে বলে থানা সূত্র নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ০৬ মে ২০২৬ বুধবার রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটের দিকে ধামইরহাট থানার একটি চৌকস টিম উপজেলার ফতেপুর বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। ফতেপুর বাজারের “চাচা ভাতিজা ট্রেডার্স” নামের একটি দোকানে সন্দেহভাজন মাদক লেনদেনের তথ্য পেয়ে পুলিশ সেখানে অবস্থান নেয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে মোঃ হাসানুজ্জামান ওরফে হায়াত (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১৯ পিস নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, এই ধামইরহাটে মাদক অভিযান ছিল পরিকল্পিত ও তথ্যভিত্তিক।

গ্রেফতারকৃত হাসানুজ্জামান উপজেলার ফতেহপুর বাজার এলাকার মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে। থানা সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের একজন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, তার কারণে এলাকায় তরুণদের মধ্যে মাদকের বিস্তার বাড়ছিল। এ কারণে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের নজরদারি আরও জোরদার করা হয়। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ধামইরহাটে মাদক অভিযান সফলভাবে তাকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট বর্তমানে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্যের তালিকাভুক্ত। এটি মূলত শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধ হলেও অপব্যবহারের কারণে দেশে এর অবৈধ ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এই ধরনের নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। এ অবস্থায় নওগাঁ জেলা পুলিশ মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার অংশ হিসেবেই এই ধামইরহাটে মাদক অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ধামইরহাট থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পুলিশ বলছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষকেও মাদকবিরোধী তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এমন অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা বলছেন, এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে বাজারকেন্দ্রিক গোপন মাদক ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের মতে, পুলিশের চলমান উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে ধামইরহাটে মাদক বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।

আরোও পড়ুন – নাটোরে গাঁজা উদ্ধার: র‌্যাব-৫ এর অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার