নরসিংদী জেলা প্রতিনিধিঃ নাহিদ হাসান
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া পদ্মা সেতু থেকে নদীতে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। বহুল আলোচিত কাপাসিয়া পাঁচ হত্যা মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে এ ধারণায় পৌঁছেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় গাজীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন।
পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার পরপরই ফোরকান মিয়াকে গ্রেপ্তারের জন্য একাধিক টিম মাঠে নামে। একটি দল গোপালগঞ্জে তার গ্রামের বাড়ি এলাকায় অভিযান চালায় এবং আরেকটি দল বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেয়, যাতে তিনি দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন। তদন্তের একপর্যায়ে মেহেরপুর থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যায়। সেখানে এক বাস হেলপারের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়, যা পরে ফোরকানের বলে নিশ্চিত হয়। ওই বাস হেলপার পুলিশকে জানান, তিনি মোবাইলটি পদ্মা সেতুর ওপর থেকে কুড়িয়ে পেয়েছিলেন। এরপর থেকেই কাপাসিয়া পাঁচ হত্যা মামলার তদন্ত নতুন মোড় নেয়।
পরে পুলিশের একটি বিশেষ টিম পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে। ফুটেজে দেখা যায়, একটি প্রাইভেটকার থেকে এক ব্যক্তি নেমে আসছেন। তিনি গাড়ি থেকে নেমে নিজের হাতে থাকা ব্যাগ ও মোবাইল ফোন ফুটপাতের ওপর রেখে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর দেড় থেকে দুই মিনিট অপেক্ষা করে তিনি সেতুর রেলিংয়ে উঠে নদীতে ঝাঁপ দেন। যদিও ভিডিওতে মুখ স্পষ্ট দেখা যায়নি, তারপরও পরিবারের সদস্য এবং মামলার বাদী ভিডিও দেখে ধারণা করছেন, ওই ব্যক্তি ফোরকান মিয়াই হতে পারেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরও জানান, ভিডিও ফুটেজটি নিহত শারমিনের বাবা, ফোরকানের ভাই জব্বার এবং স্থানীয় কয়েকজনকে দেখানো হয়েছে। তারা শতভাগ নিশ্চিত না হলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিটি ফোরকান। তবে মরদেহ উদ্ধার ও ডিএনএ পরীক্ষার আগে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। এ কারণে দেশের বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে, যাতে কোনো অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার হলে দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা যায়। আলোচিত কাপাসিয়া পাঁচ হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায়নি পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা সেতুতে পৌঁছানোর জন্য ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি ঢাকার পল্টনের একটি রেন্ট-এ-কার প্রতিষ্ঠান থেকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। গাড়ির চালককে ফোরকান বলেছিলেন, তার এক আত্মীয় মারা গেছেন এবং জরুরি কাজে তাকে যেতে হবে। তবে অল্প সময়ের জন্য দেখার কারণে চালক তাকে পুরোপুরি শনাক্ত করতে পারেননি। পুলিশ বলছে, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন, গাড়ি ভাড়ার তথ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজ মিলিয়ে তদন্ত অনেক দূর এগিয়েছে।
গত শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাসায় ঘটে ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ড। নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুরো এলাকাজুড়ে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা জানান, পরিবারটিকে বাইরে থেকে স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পরদিন সকালে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে দাবি করেন যে, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে প্রতিবেশীরা বাড়িতে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পাঁচজনের মরদেহ দেখতে পান। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া কিছু প্রিন্ট করা কাগজপত্রে স্ত্রীর বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎ ও পরকীয়ার অভিযোগের বিষয় উঠে আসে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, পারিবারিক কলহ ও মানসিক ক্ষোভ থেকেই ফোরকান এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। বর্তমানে আলোচিত কাপাসিয়া পাঁচ হত্যা মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
আরোও পড়ুন – গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা, এলাকায় আতঙ্ক
কাপাসিয়া পাঁচ হত্যা: পদ্মা সেতু থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার সন্দেহ ফোরকানের
নরসিংদী জেলা প্রতিনিধিঃ নাহিদ হাসান
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া পদ্মা সেতু থেকে নদীতে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। বহুল আলোচিত কাপাসিয়া পাঁচ হত্যা মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে এ ধারণায় পৌঁছেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় গাজীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন।
পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার পরপরই ফোরকান মিয়াকে গ্রেপ্তারের জন্য একাধিক টিম মাঠে নামে। একটি দল গোপালগঞ্জে তার গ্রামের বাড়ি এলাকায় অভিযান চালায় এবং আরেকটি দল বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেয়, যাতে তিনি দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন। তদন্তের একপর্যায়ে মেহেরপুর থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যায়। সেখানে এক বাস হেলপারের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়, যা পরে ফোরকানের বলে নিশ্চিত হয়। ওই বাস হেলপার পুলিশকে জানান, তিনি মোবাইলটি পদ্মা সেতুর ওপর থেকে কুড়িয়ে পেয়েছিলেন। এরপর থেকেই কাপাসিয়া পাঁচ হত্যা মামলার তদন্ত নতুন মোড় নেয়।
পরে পুলিশের একটি বিশেষ টিম পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে। ফুটেজে দেখা যায়, একটি প্রাইভেটকার থেকে এক ব্যক্তি নেমে আসছেন। তিনি গাড়ি থেকে নেমে নিজের হাতে থাকা ব্যাগ ও মোবাইল ফোন ফুটপাতের ওপর রেখে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর দেড় থেকে দুই মিনিট অপেক্ষা করে তিনি সেতুর রেলিংয়ে উঠে নদীতে ঝাঁপ দেন। যদিও ভিডিওতে মুখ স্পষ্ট দেখা যায়নি, তারপরও পরিবারের সদস্য এবং মামলার বাদী ভিডিও দেখে ধারণা করছেন, ওই ব্যক্তি ফোরকান মিয়াই হতে পারেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরও জানান, ভিডিও ফুটেজটি নিহত শারমিনের বাবা, ফোরকানের ভাই জব্বার এবং স্থানীয় কয়েকজনকে দেখানো হয়েছে। তারা শতভাগ নিশ্চিত না হলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিটি ফোরকান। তবে মরদেহ উদ্ধার ও ডিএনএ পরীক্ষার আগে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। এ কারণে দেশের বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে, যাতে কোনো অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার হলে দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা যায়। আলোচিত কাপাসিয়া পাঁচ হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায়নি পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা সেতুতে পৌঁছানোর জন্য ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি ঢাকার পল্টনের একটি রেন্ট-এ-কার প্রতিষ্ঠান থেকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। গাড়ির চালককে ফোরকান বলেছিলেন, তার এক আত্মীয় মারা গেছেন এবং জরুরি কাজে তাকে যেতে হবে। তবে অল্প সময়ের জন্য দেখার কারণে চালক তাকে পুরোপুরি শনাক্ত করতে পারেননি। পুলিশ বলছে, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন, গাড়ি ভাড়ার তথ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজ মিলিয়ে তদন্ত অনেক দূর এগিয়েছে।
গত শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাসায় ঘটে ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ড। নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুরো এলাকাজুড়ে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা জানান, পরিবারটিকে বাইরে থেকে স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পরদিন সকালে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে দাবি করেন যে, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে প্রতিবেশীরা বাড়িতে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পাঁচজনের মরদেহ দেখতে পান। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া কিছু প্রিন্ট করা কাগজপত্রে স্ত্রীর বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎ ও পরকীয়ার অভিযোগের বিষয় উঠে আসে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, পারিবারিক কলহ ও মানসিক ক্ষোভ থেকেই ফোরকান এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। বর্তমানে আলোচিত কাপাসিয়া পাঁচ হত্যা মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
আরোও পড়ুন – গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা, এলাকায় আতঙ্ক