স্টাফ রিপোর্টার, (পটুয়াখালী) মো. আতিকুল ইসলামঃ
পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ৬১৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিন মাদক কারবারিকে আটক করেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) গভীর রাতে সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের মুচিরপুল ও পশরীবুনিয়া এলাকায় পরিচালিত এই ডিবি অভিযান এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দীর্ঘ সময় নজরদারির পর অভিযান চালানো হয়। অভিযানে উদ্ধার হওয়া ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো স্থানীয় মাদক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই মোঃ আছিবুর রহমান তুষারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম এই ডিবি অভিযান পরিচালনা করে। প্রথম অভিযানে রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে কালিকাপুর ইউনিয়নের মুচিরপুল সংলগ্ন তিন রাস্তার মোড় এলাকা থেকে আবুল কালাম (৩২) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। এসময় তার দেহ তল্লাশি করে ২০৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আটক আবুল কালাম বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আবুল কালাম স্বীকার করেন, উদ্ধার হওয়া ইয়াবাগুলো তিনি স্থানীয় আরও কয়েকজনের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি সদস্যরা দ্রুত দ্বিতীয় অভিযান পরিচালনা করে। রাত আনুমানিক ১টা ৫৫ মিনিটে পশরীবুনিয়া এলাকার একটি বাড়িতে চালানো দ্বিতীয় ডিবি অভিযান থেকে নাসির উদ্দিন জুয়েল (৩১) ও মিজানুর রহমানকে (৪০) আটক করা হয়। অভিযানের সময় জুয়েলের কাছ থেকে ২০৪ পিস এবং মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ২০৬ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রফিকুল ইসলাম মুরাদ নামে আরও এক অভিযুক্ত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কালিকাপুর ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় গোপনে মাদক ব্যবসা পরিচালিত হয়ে আসছিল। বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ সহজে ইয়াবার নেশায় জড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে এলাকায় নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা একটি সক্রিয় মাদক চক্রের সদস্য এবং তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করতেন।
পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবেই এই ডিবি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে ইতোমধ্যে একাধিক স্থানে অভিযান শুরু হয়েছে। আটক তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া ইয়াবার উৎস ও এর সঙ্গে জড়িত বড় সিন্ডিকেট শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা আরও জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত ও উপকূলীয় রুট ব্যবহার করে যাতে কোনো মাদক চক্র সক্রিয় হতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদক ব্যবসা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এদিকে অভিযানের খবরে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং অনেকেই পুলিশের এমন তৎপরতাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
আরোও পড়ুন – পটুয়াখালীতে ডিবি অভিযান: আবাসিক হোটেল থেকে ইয়াবা- নারীসহ ৩ মাদক কারবারি আটক
পটুয়াখালীতে ডিবি অভিযানে ৬১৩ পিস ইয়াবাসহ আটক ৩ মাদক কারবারি
স্টাফ রিপোর্টার, (পটুয়াখালী) মো. আতিকুল ইসলামঃ
পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ৬১৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিন মাদক কারবারিকে আটক করেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) গভীর রাতে সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের মুচিরপুল ও পশরীবুনিয়া এলাকায় পরিচালিত এই ডিবি অভিযান এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দীর্ঘ সময় নজরদারির পর অভিযান চালানো হয়। অভিযানে উদ্ধার হওয়া ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো স্থানীয় মাদক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই মোঃ আছিবুর রহমান তুষারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম এই ডিবি অভিযান পরিচালনা করে। প্রথম অভিযানে রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে কালিকাপুর ইউনিয়নের মুচিরপুল সংলগ্ন তিন রাস্তার মোড় এলাকা থেকে আবুল কালাম (৩২) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। এসময় তার দেহ তল্লাশি করে ২০৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আটক আবুল কালাম বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আবুল কালাম স্বীকার করেন, উদ্ধার হওয়া ইয়াবাগুলো তিনি স্থানীয় আরও কয়েকজনের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি সদস্যরা দ্রুত দ্বিতীয় অভিযান পরিচালনা করে। রাত আনুমানিক ১টা ৫৫ মিনিটে পশরীবুনিয়া এলাকার একটি বাড়িতে চালানো দ্বিতীয় ডিবি অভিযান থেকে নাসির উদ্দিন জুয়েল (৩১) ও মিজানুর রহমানকে (৪০) আটক করা হয়। অভিযানের সময় জুয়েলের কাছ থেকে ২০৪ পিস এবং মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ২০৬ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রফিকুল ইসলাম মুরাদ নামে আরও এক অভিযুক্ত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কালিকাপুর ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় গোপনে মাদক ব্যবসা পরিচালিত হয়ে আসছিল। বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ সহজে ইয়াবার নেশায় জড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে এলাকায় নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা একটি সক্রিয় মাদক চক্রের সদস্য এবং তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করতেন।
পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবেই এই ডিবি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে ইতোমধ্যে একাধিক স্থানে অভিযান শুরু হয়েছে। আটক তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া ইয়াবার উৎস ও এর সঙ্গে জড়িত বড় সিন্ডিকেট শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা আরও জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত ও উপকূলীয় রুট ব্যবহার করে যাতে কোনো মাদক চক্র সক্রিয় হতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদক ব্যবসা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এদিকে অভিযানের খবরে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং অনেকেই পুলিশের এমন তৎপরতাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
আরোও পড়ুন – পটুয়াখালীতে ডিবি অভিযান: আবাসিক হোটেল থেকে ইয়াবা- নারীসহ ৩ মাদক কারবারি আটক