শাহজাদপুরে সেলাই প্রশিক্ষণ ব্যাচ উদ্বোধন, নারীদের স্বাবলম্বী করতে নতুন উদ্যোগ

মো:নাঈমুল ইসলাম নিলয়, স্টাফ রিপোর্টার (শাহজাদপুর)

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় পিছিয়ে পড়া ও অসহায় নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে নতুন উদ্যোগ হিসেবে একটি সেলাই প্রশিক্ষণ ব্যাচের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২০২৬) উপজেলার বড় মহারাজপুর গ্রামে হাউস অফ মান্নান চারিটেবল ট্রাস্টের অর্থায়নে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে স্থানীয় নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শাহবাজ খান সানি। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত নারীদের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ হতে পারে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম। বক্তারা জানান, নারীরা ঘরে বসেই সেলাই কাজের মাধ্যমে পরিবারের আয় বৃদ্ধি করতে পারবেন। এতে শুধু একটি পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে না, বরং সমাজে নারীর মর্যাদা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। আয়োজকরা জানান, প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের বাস্তবভিত্তিক কাজের সুযোগ তৈরিতেও সহায়তা করা হবে।

প্রধান অতিথি শাহবাজ খান সানি তার বক্তব্যে বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য। সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় নারীদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তুলতে পারলে একটি পরিবার যেমন বদলে যায়, তেমনি বদলে যায় পুরো সমাজের চিত্র।” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের সেলাই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক বৈষম্য কমাতেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তিনি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এ ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, “প্রচেষ্টা সবার জন্য মানবিক সংগঠন” এবং হাউস অফ মান্নান চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দীর্ঘদিন ধরে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষা সহায়তা, চিকিৎসা সহযোগিতা, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ করে নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ প্রদান করে তাদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ইতোমধ্যে প্রশংসা অর্জন করেছে। আয়োজকদের দাবি, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের অনেকেই এখন নিজ উদ্যোগে কাজ করে পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রামীণ নারীদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। অনেক নারী পারিবারিক ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বাইরে কাজ করতে পারেন না। কিন্তু ঘরে বসে সেলাই কাজ করার সুযোগ থাকায় তারা সহজেই আয়ের পথ খুঁজে পাচ্ছেন। এতে পরিবারে স্বচ্ছলতা বাড়ছে এবং সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। স্থানীয়দের মতে, নিয়মিত সেলাই প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হলে এলাকার আরও অনেক নারী কর্মসংস্থানের আওতায় আসবেন এবং বেকারত্ব কমবে।

অনুষ্ঠানের শেষে আয়োজকরা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বক্তারা বলেন, নারীদের উন্নয়ন ছাড়া দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র ঋণ সহায়তা এবং উদ্যোক্তা তৈরির কার্যক্রম আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

আরোও পড়ুন – রাবিতে এটিএম কার্ড বিতরণে ভিড়, কার্ড পরিবর্তনে বিভ্রান্তি

শাহজাদপুরে সেলাই প্রশিক্ষণ ব্যাচ উদ্বোধন, নারীদের স্বাবলম্বী করতে নতুন উদ্যোগ

মে ১৪, ২০২৬

মো:নাঈমুল ইসলাম নিলয়, স্টাফ রিপোর্টার (শাহজাদপুর)

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় পিছিয়ে পড়া ও অসহায় নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে নতুন উদ্যোগ হিসেবে একটি সেলাই প্রশিক্ষণ ব্যাচের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২০২৬) উপজেলার বড় মহারাজপুর গ্রামে হাউস অফ মান্নান চারিটেবল ট্রাস্টের অর্থায়নে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে স্থানীয় নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শাহবাজ খান সানি। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত নারীদের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ হতে পারে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম। বক্তারা জানান, নারীরা ঘরে বসেই সেলাই কাজের মাধ্যমে পরিবারের আয় বৃদ্ধি করতে পারবেন। এতে শুধু একটি পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে না, বরং সমাজে নারীর মর্যাদা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। আয়োজকরা জানান, প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের বাস্তবভিত্তিক কাজের সুযোগ তৈরিতেও সহায়তা করা হবে।

প্রধান অতিথি শাহবাজ খান সানি তার বক্তব্যে বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য। সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় নারীদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তুলতে পারলে একটি পরিবার যেমন বদলে যায়, তেমনি বদলে যায় পুরো সমাজের চিত্র।” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের সেলাই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক বৈষম্য কমাতেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তিনি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এ ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, “প্রচেষ্টা সবার জন্য মানবিক সংগঠন” এবং হাউস অফ মান্নান চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দীর্ঘদিন ধরে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষা সহায়তা, চিকিৎসা সহযোগিতা, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ করে নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ প্রদান করে তাদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ইতোমধ্যে প্রশংসা অর্জন করেছে। আয়োজকদের দাবি, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের অনেকেই এখন নিজ উদ্যোগে কাজ করে পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রামীণ নারীদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। অনেক নারী পারিবারিক ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বাইরে কাজ করতে পারেন না। কিন্তু ঘরে বসে সেলাই কাজ করার সুযোগ থাকায় তারা সহজেই আয়ের পথ খুঁজে পাচ্ছেন। এতে পরিবারে স্বচ্ছলতা বাড়ছে এবং সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। স্থানীয়দের মতে, নিয়মিত সেলাই প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হলে এলাকার আরও অনেক নারী কর্মসংস্থানের আওতায় আসবেন এবং বেকারত্ব কমবে।

অনুষ্ঠানের শেষে আয়োজকরা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বক্তারা বলেন, নারীদের উন্নয়ন ছাড়া দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র ঋণ সহায়তা এবং উদ্যোক্তা তৈরির কার্যক্রম আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

আরোও পড়ুন – রাবিতে এটিএম কার্ড বিতরণে ভিড়, কার্ড পরিবর্তনে বিভ্রান্তি