কলাপাড়ায় ভেজাল পানীয় কারখানায় অভিযান, জরিমানা ও কারাদণ্ড

মো. আতিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার | পটুয়াখালী

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে ওঠা একটি ভেজাল পানীয় কারখানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার (১৫ মে, ২০২৬) দুপুরে কলাপাড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কবি নজরুল ইসলাম সড়ক সংলগ্ন এলাকায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বিপুল পরিমাণ অনুমোদনহীন কোমল পানীয় জব্দ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে গোপনে পরিচালিত এই কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কোমল পানীয় উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে প্রশাসন। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতেই মূলত অভিযান পরিচালনা করা হয়।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব কাউছার হামিদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে প্রশাসনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের সময় একটি ভাড়া বাসার নিচতলায় গড়ে ওঠা ওই ভেজাল পানীয় কারখানা থেকে বিএসটিআই অনুমোদনবিহীন ৩ হাজার ৭২০ পিস কোমল পানীয় উদ্ধার করা হয়। “ড্রিংকোর” নামের এসব পানীয় কোনো ধরনের স্বাস্থ্যসম্মত মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই উৎপাদন করা হচ্ছিল বলে জানা গেছে। কারখানার ভেতরে অপরিষ্কার পানির ব্যবহার, নিম্নমানের রাসায়নিক উপাদান এবং মেয়াদহীন উপকরণও পাওয়া যায় বলে প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির মালিক উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো বৈধ লাইসেন্স, বিএসটিআই অনুমোদন কিংবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ছাড়পত্র দেখাতে পারেননি। এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় আদালত তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে এবং অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পরে প্রশাসনের নির্দেশে পুরো ভেজাল পানীয় কারখানা সিলগালা করে দেওয়া হয়।

অভিযান চলাকালে জব্দ করা কোমল পানীয়গুলো জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়। প্রশাসনের কর্মীরা রোলার ব্যবহার করে বোতলগুলো পিষ্ট করেন, যাতে সেগুলো পুনরায় বাজারে প্রবেশ করতে না পারে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন এবং প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানান। সচেতন মহলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাটিতে নিম্নমানের কোমল পানীয় উৎপাদনের অভিযোগ থাকলেও এত বড় আকারের অভিযান এবারই প্রথম পরিচালিত হলো। তারা নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব কাউছার হামিদ বলেন, “কলাপাড়ায় কোনোভাবেই অনুমোদনহীন খাদ্যপণ্য উৎপাদন করতে দেওয়া হবে না। জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোথাও কোনো ভেজাল পানীয় কারখানা বা অবৈধ খাদ্য উৎপাদনের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্দেহজনক খাদ্যপণ্য বা কারখানার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসনকে জানাতে হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকদের মতে, বাজারে কম দামে বিক্রি হওয়া অনেক কোমল পানীয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে শিশু-কিশোররা এসব পানীয় বেশি গ্রহণ করায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। চিকিৎসকরাও বলছেন, অনুমোদনহীন কোমল পানীয়ে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও রং ব্যবহারের কারণে লিভার, কিডনি ও হজমজনিত নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এমন অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে, অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কলাপাড়াজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশাসনের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করছেন অনেকে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ভবিষ্যতেও এমন কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

আরোও পড়ুন – পবিপ্রবিতে শিক্ষক হামলা, মানববন্ধনে আহত ৯ শিক্ষক

কলাপাড়ায় ভেজাল পানীয় কারখানায় অভিযান, জরিমানা ও কারাদণ্ড

মে ১৫, ২০২৬

মো. আতিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার | পটুয়াখালী

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে ওঠা একটি ভেজাল পানীয় কারখানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার (১৫ মে, ২০২৬) দুপুরে কলাপাড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কবি নজরুল ইসলাম সড়ক সংলগ্ন এলাকায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বিপুল পরিমাণ অনুমোদনহীন কোমল পানীয় জব্দ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে গোপনে পরিচালিত এই কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কোমল পানীয় উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে প্রশাসন। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতেই মূলত অভিযান পরিচালনা করা হয়।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব কাউছার হামিদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে প্রশাসনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের সময় একটি ভাড়া বাসার নিচতলায় গড়ে ওঠা ওই ভেজাল পানীয় কারখানা থেকে বিএসটিআই অনুমোদনবিহীন ৩ হাজার ৭২০ পিস কোমল পানীয় উদ্ধার করা হয়। “ড্রিংকোর” নামের এসব পানীয় কোনো ধরনের স্বাস্থ্যসম্মত মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই উৎপাদন করা হচ্ছিল বলে জানা গেছে। কারখানার ভেতরে অপরিষ্কার পানির ব্যবহার, নিম্নমানের রাসায়নিক উপাদান এবং মেয়াদহীন উপকরণও পাওয়া যায় বলে প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির মালিক উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো বৈধ লাইসেন্স, বিএসটিআই অনুমোদন কিংবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ছাড়পত্র দেখাতে পারেননি। এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় আদালত তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে এবং অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পরে প্রশাসনের নির্দেশে পুরো ভেজাল পানীয় কারখানা সিলগালা করে দেওয়া হয়।

অভিযান চলাকালে জব্দ করা কোমল পানীয়গুলো জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়। প্রশাসনের কর্মীরা রোলার ব্যবহার করে বোতলগুলো পিষ্ট করেন, যাতে সেগুলো পুনরায় বাজারে প্রবেশ করতে না পারে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন এবং প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানান। সচেতন মহলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাটিতে নিম্নমানের কোমল পানীয় উৎপাদনের অভিযোগ থাকলেও এত বড় আকারের অভিযান এবারই প্রথম পরিচালিত হলো। তারা নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব কাউছার হামিদ বলেন, “কলাপাড়ায় কোনোভাবেই অনুমোদনহীন খাদ্যপণ্য উৎপাদন করতে দেওয়া হবে না। জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোথাও কোনো ভেজাল পানীয় কারখানা বা অবৈধ খাদ্য উৎপাদনের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্দেহজনক খাদ্যপণ্য বা কারখানার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসনকে জানাতে হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকদের মতে, বাজারে কম দামে বিক্রি হওয়া অনেক কোমল পানীয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে শিশু-কিশোররা এসব পানীয় বেশি গ্রহণ করায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। চিকিৎসকরাও বলছেন, অনুমোদনহীন কোমল পানীয়ে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও রং ব্যবহারের কারণে লিভার, কিডনি ও হজমজনিত নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এমন অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে, অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কলাপাড়াজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশাসনের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করছেন অনেকে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ভবিষ্যতেও এমন কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

আরোও পড়ুন – পবিপ্রবিতে শিক্ষক হামলা, মানববন্ধনে আহত ৯ শিক্ষক