মানিকগঞ্জে অপপ্রচার চক্রের দৌরাত্ম্য, আতঙ্কে রাজনীতিবিদ-সাংবাদিকরা

বাবুল আহমেদ, মানিকগঞ্জঃ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর মানিকগঞ্জে নতুন এক আতঙ্কের জন্ম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন, সাংবাদিক সমাজ, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি সংঘবদ্ধ অপপ্রচার চক্র দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক পেজ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে জেলায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার বাইরে অবস্থানরত কয়েকজন প্রবাসী ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। শুরুতে “মানিকগঞ্জ নিউজ” নামে তাদের কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে একাধিক ফেসবুক পেজ পরিচালনা করা হয়। “মানিকগঞ্জের আওয়াজ”, “দৈনিক মানিকগঞ্জ নিউজ” এবং সর্বশেষ “Next Time” নামের একটি পেজের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এই অপপ্রচার চক্র জেলার কিছু উঠতি বয়সী কিশোর গ্যাং সদস্য ও কথিত ভূইফোড় সাংবাদিকদেরও ব্যবহার করছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রথমে টার্গেট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অসত্য তথ্য ছড়িয়ে সামাজিকভাবে বিতর্ক তৈরি করা হয়। এরপর পোস্ট সরিয়ে ফেলা অথবা অপপ্রচার বন্ধ করার শর্তে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। সামাজিক মর্যাদা ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। তবে নীরবে একের পর এক মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই অপপ্রচার চক্র জেলার স্বাভাবিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।

এদিকে সম্প্রতি জেলার বহুল প্রচারিত স্থানীয় দৈনিক “আমার নিউজ” অফিসে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, একদল ব্যক্তি অফিসে প্রবেশ করে পত্রিকাটির সম্পাদক সাংবাদিক আকরাম হোসেনের স্ত্রী অ্যাডভোকেট ফরিদা ইয়াসমিনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরবর্তীতে “Next Time” পেজে তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কুৎসা, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও মানহানিকর পোস্ট প্রকাশ করা হয় বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, শুধুমাত্র অর্থ আদায় নয় এই নেটওয়ার্কের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকেই। “Next Time” নামের পেজটির বিভিন্ন পোস্ট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সেখানে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পক্ষে প্রচারণামূলক বক্তব্য নিয়মিত প্রকাশ করা হচ্ছে। ফলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সামাজিকভাবে হেয় করা এবং জেলায় বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করাও এই চক্রের লক্ষ্য হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। স্থানীয়দের দাবি, পরিকল্পিতভাবে গুজব ও অপতথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভক্তি তৈরির চেষ্টা চলছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানি, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পেজ ও এর পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। কয়েকটি মামলার তদন্তও চলমান রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে সাইবার ইউনিট বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনলাইনে গুজব ও অপপ্রচার বন্ধে কঠোর নজরদারি বাড়ানো না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো তথ্য বিশ্বাস করা উচিত নয়। তারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তিকর পোস্টে মন্তব্য বা শেয়ার না করার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সাইবার ব্ল্যাকমেইল, অনলাইন চাঁদাবাজি ও মানহানিকর প্রচারণার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে প্রশাসন, গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

আরোও পড়ুন – সাটুরিয়া সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোরসহ নিহত ৩

মানিকগঞ্জে অপপ্রচার চক্রের দৌরাত্ম্য, আতঙ্কে রাজনীতিবিদ-সাংবাদিকরা

মে ১৫, ২০২৬

বাবুল আহমেদ, মানিকগঞ্জঃ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর মানিকগঞ্জে নতুন এক আতঙ্কের জন্ম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন, সাংবাদিক সমাজ, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি সংঘবদ্ধ অপপ্রচার চক্র দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক পেজ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে জেলায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার বাইরে অবস্থানরত কয়েকজন প্রবাসী ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। শুরুতে “মানিকগঞ্জ নিউজ” নামে তাদের কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে একাধিক ফেসবুক পেজ পরিচালনা করা হয়। “মানিকগঞ্জের আওয়াজ”, “দৈনিক মানিকগঞ্জ নিউজ” এবং সর্বশেষ “Next Time” নামের একটি পেজের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এই অপপ্রচার চক্র জেলার কিছু উঠতি বয়সী কিশোর গ্যাং সদস্য ও কথিত ভূইফোড় সাংবাদিকদেরও ব্যবহার করছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রথমে টার্গেট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অসত্য তথ্য ছড়িয়ে সামাজিকভাবে বিতর্ক তৈরি করা হয়। এরপর পোস্ট সরিয়ে ফেলা অথবা অপপ্রচার বন্ধ করার শর্তে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। সামাজিক মর্যাদা ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। তবে নীরবে একের পর এক মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই অপপ্রচার চক্র জেলার স্বাভাবিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।

এদিকে সম্প্রতি জেলার বহুল প্রচারিত স্থানীয় দৈনিক “আমার নিউজ” অফিসে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, একদল ব্যক্তি অফিসে প্রবেশ করে পত্রিকাটির সম্পাদক সাংবাদিক আকরাম হোসেনের স্ত্রী অ্যাডভোকেট ফরিদা ইয়াসমিনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরবর্তীতে “Next Time” পেজে তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কুৎসা, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও মানহানিকর পোস্ট প্রকাশ করা হয় বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, শুধুমাত্র অর্থ আদায় নয় এই নেটওয়ার্কের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকেই। “Next Time” নামের পেজটির বিভিন্ন পোস্ট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সেখানে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পক্ষে প্রচারণামূলক বক্তব্য নিয়মিত প্রকাশ করা হচ্ছে। ফলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সামাজিকভাবে হেয় করা এবং জেলায় বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করাও এই চক্রের লক্ষ্য হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। স্থানীয়দের দাবি, পরিকল্পিতভাবে গুজব ও অপতথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভক্তি তৈরির চেষ্টা চলছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানি, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পেজ ও এর পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। কয়েকটি মামলার তদন্তও চলমান রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে সাইবার ইউনিট বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনলাইনে গুজব ও অপপ্রচার বন্ধে কঠোর নজরদারি বাড়ানো না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো তথ্য বিশ্বাস করা উচিত নয়। তারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তিকর পোস্টে মন্তব্য বা শেয়ার না করার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সাইবার ব্ল্যাকমেইল, অনলাইন চাঁদাবাজি ও মানহানিকর প্রচারণার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে প্রশাসন, গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

আরোও পড়ুন – সাটুরিয়া সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোরসহ নিহত ৩