কুড়িগ্রামে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পরিবর্তনের দাবিতে মানববন্ধন, ক্ষোভ এলাকাবাসীর

মোঃ আলমগীর হোসাইন, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, (রংপুর)

কুড়িগ্রামে প্রস্তাবিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় জনগণের মাঝে। নির্ধারিত স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের পরিকল্পনার প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন কয়েক হাজার স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের অভিযোগ, বর্তমান স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করা হলে শতাধিক বসতবাড়ি, বিস্তীর্ণ আবাদি জমি এবং দীর্ঘদিনের বসবাসকারী পরিবারগুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। এ কারণে তারা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পরিবর্তন করার দাবি জানিয়েছেন সরকারের কাছে।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল ১০টার দিকে কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী সড়কের ধরলা ব্রিজ পূর্বপাড় এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন চলাকালে পুরো এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে সড়কটি। অংশগ্রহণকারীরা জানান, তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরোধী নন; বরং উন্নয়ন চান। তবে সেই উন্নয়ন যেন সাধারণ মানুষের ভিটেমাটি ও জীবিকা ধ্বংস করে না হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সরকার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে, যা অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জন্য দুর্ভোগ ডেকে আনবে। বক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ধরলা ব্রিজের পূর্বপাড়ের আরাজি মৌজায় বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করা হলে বহু পরিবার বাস্তুচ্যুত হবে। তাই তারা অনাবাদি বা পতিত জমিতে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা দ্রুত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পরিবর্তন করে বিকল্প স্থান নির্ধারণের দাবি তোলেন।

স্থানীয়দের দাবি, আরাজি ভোগডাঙ্গা মৌজার অধিকাংশ জমির এসএ, সিএস এবং আরএস রেকর্ড বিদ্যমান রয়েছে। কিছু জমির রেকর্ড নিয়ে জটিলতা থাকলেও সেসব মামলা আদালতে বিচারাধীন। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, নদীভাঙনের কারণে বহু পরিবার বছরের পর বছর জমির রেকর্ড হালনাগাদ করতে পারেনি। এ অবস্থায় হঠাৎ করে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হলে সাধারণ মানুষ আইনি ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বক্তারা আরও বলেন, এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। ফলে কৃষিজমি হারালে জীবিকার বড় সংকট তৈরি হবে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় সমাজসেবক আব্দুল কাদের জিলানী। তিনি বলেন, “নদীভাঙনের সঙ্গে যুদ্ধ করে আমাদের পূর্বপুরুষরা এই বসতভিটা রক্ষা করেছেন। এখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে যদি সেই শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে যায়, তাহলে আমাদের পথে বসতে হবে।” তিনি আরও বলেন, সরকার চাইলে বিকল্প অনেক জায়গা রয়েছে যেখানে সাধারণ মানুষের ক্ষতি ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করা সম্ভব। তাই এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পরিবর্তন করে এমন জায়গা নির্বাচন করা হোক যেখানে জনগণের ভোগান্তি হবে না।

এর আগে সকাল ৯টা থেকে আরাজি ভোগডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ জড়ো হতে থাকেন। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ধরলা ব্রিজ পূর্বপাড় এলাকায় এসে মানববন্ধনে মিলিত হয়। বিক্ষোভকারীরা “ভিটেমাটি রক্ষা করো”, “ফসলি জমি ধ্বংস নয়”, “জনগণের মতামত নিতে হবে” ইত্যাদি স্লোগান দেন। এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তাকেও ঘটনাস্থলে দেখা যায়।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে এলাকাজুড়ে আরও বড় আন্দোলনের সৃষ্টি হতে পারে। এলাকাবাসী সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে উন্নয়ন কার্যক্রম অবশ্যই জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেই বাস্তবায়ন করতে হবে। স্থানীয়দের ভাষ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেশের উন্নয়নের প্রতীক হলেও মানুষের বসতভিটা ধ্বংস করে কোনো উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না।

আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে ধরলা ভাঙন আতঙ্ক, স্থায়ী বাঁধের দাবিতে মানববন্ধন

কুড়িগ্রামে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পরিবর্তনের দাবিতে মানববন্ধন, ক্ষোভ এলাকাবাসীর

মে ২২, ২০২৬

মোঃ আলমগীর হোসাইন, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, (রংপুর)

কুড়িগ্রামে প্রস্তাবিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় জনগণের মাঝে। নির্ধারিত স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের পরিকল্পনার প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন কয়েক হাজার স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের অভিযোগ, বর্তমান স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করা হলে শতাধিক বসতবাড়ি, বিস্তীর্ণ আবাদি জমি এবং দীর্ঘদিনের বসবাসকারী পরিবারগুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। এ কারণে তারা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পরিবর্তন করার দাবি জানিয়েছেন সরকারের কাছে।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল ১০টার দিকে কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী সড়কের ধরলা ব্রিজ পূর্বপাড় এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন চলাকালে পুরো এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে সড়কটি। অংশগ্রহণকারীরা জানান, তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরোধী নন; বরং উন্নয়ন চান। তবে সেই উন্নয়ন যেন সাধারণ মানুষের ভিটেমাটি ও জীবিকা ধ্বংস করে না হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সরকার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে, যা অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জন্য দুর্ভোগ ডেকে আনবে। বক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ধরলা ব্রিজের পূর্বপাড়ের আরাজি মৌজায় বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করা হলে বহু পরিবার বাস্তুচ্যুত হবে। তাই তারা অনাবাদি বা পতিত জমিতে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা দ্রুত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পরিবর্তন করে বিকল্প স্থান নির্ধারণের দাবি তোলেন।

স্থানীয়দের দাবি, আরাজি ভোগডাঙ্গা মৌজার অধিকাংশ জমির এসএ, সিএস এবং আরএস রেকর্ড বিদ্যমান রয়েছে। কিছু জমির রেকর্ড নিয়ে জটিলতা থাকলেও সেসব মামলা আদালতে বিচারাধীন। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, নদীভাঙনের কারণে বহু পরিবার বছরের পর বছর জমির রেকর্ড হালনাগাদ করতে পারেনি। এ অবস্থায় হঠাৎ করে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হলে সাধারণ মানুষ আইনি ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বক্তারা আরও বলেন, এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। ফলে কৃষিজমি হারালে জীবিকার বড় সংকট তৈরি হবে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় সমাজসেবক আব্দুল কাদের জিলানী। তিনি বলেন, “নদীভাঙনের সঙ্গে যুদ্ধ করে আমাদের পূর্বপুরুষরা এই বসতভিটা রক্ষা করেছেন। এখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে যদি সেই শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে যায়, তাহলে আমাদের পথে বসতে হবে।” তিনি আরও বলেন, সরকার চাইলে বিকল্প অনেক জায়গা রয়েছে যেখানে সাধারণ মানুষের ক্ষতি ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করা সম্ভব। তাই এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পরিবর্তন করে এমন জায়গা নির্বাচন করা হোক যেখানে জনগণের ভোগান্তি হবে না।

এর আগে সকাল ৯টা থেকে আরাজি ভোগডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ জড়ো হতে থাকেন। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ধরলা ব্রিজ পূর্বপাড় এলাকায় এসে মানববন্ধনে মিলিত হয়। বিক্ষোভকারীরা “ভিটেমাটি রক্ষা করো”, “ফসলি জমি ধ্বংস নয়”, “জনগণের মতামত নিতে হবে” ইত্যাদি স্লোগান দেন। এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তাকেও ঘটনাস্থলে দেখা যায়।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে এলাকাজুড়ে আরও বড় আন্দোলনের সৃষ্টি হতে পারে। এলাকাবাসী সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে উন্নয়ন কার্যক্রম অবশ্যই জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেই বাস্তবায়ন করতে হবে। স্থানীয়দের ভাষ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেশের উন্নয়নের প্রতীক হলেও মানুষের বসতভিটা ধ্বংস করে কোনো উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না।

আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে ধরলা ভাঙন আতঙ্ক, স্থায়ী বাঁধের দাবিতে মানববন্ধন