মহেশপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ফেনসিডিল ও ভারতীয় আম উদ্ধার

সালেকুজ্জামান শামীম, মহেশপুর প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধে জোরদার তৎপরতা চালিয়েছে ৫৮ ব্যাটালিয়ন বিজিবি। পৃথক দুটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ফেনসিডিল জাতীয় সিরাপ ও চোরাচালানকৃত ভারতীয় আম উদ্ধার করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সীমান্ত এলাকায় অবৈধ পণ্য প্রবেশ রোধে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারির অংশ হিসেবে পরিচালিত এসব অভিযানে স্থানীয়দের মাঝেও সচেতনতা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত ব্যবহার করে মাদক ও বিভিন্ন পণ্য পাচারের চেষ্টা বেড়ে যাওয়ায় অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

২৩ মে মহেশপুর ৫৮ ব্যাটালিয়নের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নতুনপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ৬৪/৪-এস এলাকা দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে মাদক প্রবেশের গোপন সংবাদ পায় বিজিবি। পরে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে সদস্যরা নতুনপাড়া গ্রামের আকুল কাশেমের পাটক্ষেতের পাশ থেকে ভারতীয় ৩৬ বোতল ফেনসিডিল জাতীয় সিরাপ উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া সিরাপগুলোর গায়ে “FAIRDYL COUGH LINCTUS” লেখা ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মহেশপুর বিজিবি অভিযান পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন হাবিলদার মো. সাইফুর রহমান।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট ব্যবহার করে মাদক চোরাকারবারিরা প্রায়ই অভিনব কৌশলে অবৈধ পণ্য দেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনক চলাচল সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিচ্ছেন। ফলে মহেশপুর বিজিবি অভিযান এখন আরও কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একইদিন দুপুর ১টার দিকে নতুনপাড়া বিওপির আরেকটি পৃথক অভিযানে সীমান্ত পিলার ৬৭-এমপি সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রায় ৩৪০ কেজি ভারতীয় আম জব্দ করা হয়। এসব আম অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হচ্ছিল বলে জানিয়েছে বিজিবি। অভিযান চলাকালে চোরাকারবারিরা পালিয়ে গেলেও বিপুল পরিমাণ আম জব্দ করতে সক্ষম হয় টহল দল। পরবর্তীতে উদ্ধার হওয়া মালামাল আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এমন ধারাবাহিক অভিযানে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা বলছেন, সীমান্ত পথে মাদক প্রবেশ বন্ধ করা না গেলে যুবসমাজ ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিশেষ করে ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক অপরাধও বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমে মহেশপুর বিজিবি অভিযান আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে। বিজিবির দাবি, দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সীমান্তে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। ভবিষ্যতেও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষায় কাজ চালিয়ে যাবে বাহিনী। মহেশপুর বিজিবি অভিযান সীমান্ত অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

আরোও পড়ুন – ঝিনাইদহের মহেশপুরে অতি বৃষ্টিতে ব্যাপক ধানের ক্ষতি, কৃষকের দুশ্চিন্তা চরমে

মহেশপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ফেনসিডিল ও ভারতীয় আম উদ্ধার

মে ২৪, ২০২৬

সালেকুজ্জামান শামীম, মহেশপুর প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধে জোরদার তৎপরতা চালিয়েছে ৫৮ ব্যাটালিয়ন বিজিবি। পৃথক দুটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ফেনসিডিল জাতীয় সিরাপ ও চোরাচালানকৃত ভারতীয় আম উদ্ধার করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সীমান্ত এলাকায় অবৈধ পণ্য প্রবেশ রোধে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারির অংশ হিসেবে পরিচালিত এসব অভিযানে স্থানীয়দের মাঝেও সচেতনতা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত ব্যবহার করে মাদক ও বিভিন্ন পণ্য পাচারের চেষ্টা বেড়ে যাওয়ায় অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

২৩ মে মহেশপুর ৫৮ ব্যাটালিয়নের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নতুনপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ৬৪/৪-এস এলাকা দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে মাদক প্রবেশের গোপন সংবাদ পায় বিজিবি। পরে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে সদস্যরা নতুনপাড়া গ্রামের আকুল কাশেমের পাটক্ষেতের পাশ থেকে ভারতীয় ৩৬ বোতল ফেনসিডিল জাতীয় সিরাপ উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া সিরাপগুলোর গায়ে “FAIRDYL COUGH LINCTUS” লেখা ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মহেশপুর বিজিবি অভিযান পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন হাবিলদার মো. সাইফুর রহমান।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট ব্যবহার করে মাদক চোরাকারবারিরা প্রায়ই অভিনব কৌশলে অবৈধ পণ্য দেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনক চলাচল সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিচ্ছেন। ফলে মহেশপুর বিজিবি অভিযান এখন আরও কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একইদিন দুপুর ১টার দিকে নতুনপাড়া বিওপির আরেকটি পৃথক অভিযানে সীমান্ত পিলার ৬৭-এমপি সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রায় ৩৪০ কেজি ভারতীয় আম জব্দ করা হয়। এসব আম অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হচ্ছিল বলে জানিয়েছে বিজিবি। অভিযান চলাকালে চোরাকারবারিরা পালিয়ে গেলেও বিপুল পরিমাণ আম জব্দ করতে সক্ষম হয় টহল দল। পরবর্তীতে উদ্ধার হওয়া মালামাল আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এমন ধারাবাহিক অভিযানে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা বলছেন, সীমান্ত পথে মাদক প্রবেশ বন্ধ করা না গেলে যুবসমাজ ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিশেষ করে ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক অপরাধও বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমে মহেশপুর বিজিবি অভিযান আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে। বিজিবির দাবি, দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সীমান্তে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। ভবিষ্যতেও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষায় কাজ চালিয়ে যাবে বাহিনী। মহেশপুর বিজিবি অভিযান সীমান্ত অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

আরোও পড়ুন – ঝিনাইদহের মহেশপুরে অতি বৃষ্টিতে ব্যাপক ধানের ক্ষতি, কৃষকের দুশ্চিন্তা চরমে