ঈদে কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি, কোটি টাকার মাদক ও ভারতীয় পণ্য জব্দ

মোঃ আলমগীর হোসাইন,বিভাগীয় ব্যুরো চিফ,রংপুরঃ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কুড়িগ্রাম সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত পথে চোরাচালান, মাদক পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে দিন-রাত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। বিশেষ করে ঈদের আগে সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় পণ্য পাচার এবং মাদকের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। স্থানীয় বাসিন্দারাও বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির তৎপরতা আগের তুলনায় অনেক বেশি দৃশ্যমান হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত এক মাসে কুড়িগ্রাম সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে প্রায় ১ কোটি ৭১ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিকস, বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য, গাঁজা ও ইয়াবাসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য ও পণ্যগুলো আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সীমান্তের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত টহল এবং রাতভর নজরদারির কারণে চোরাকারবারিদের চলাচল অনেকটাই কমে এসেছে বলেও দাবি করেছে বাহিনীটি।

বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, সীমান্তবর্তী প্রতিটি বিওপি (বর্ডার আউট পোস্ট) থেকে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী নিয়মিত টহল পরিচালনার পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা। সীমান্ত এলাকায় সন্দেহভাজন চলাচল পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে নদীঘেঁষা এলাকা, চরাঞ্চল এবং দুর্গম সীমান্তপথে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে যাতে কোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ সংঘটিত না হয়, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও সমন্বয় করে কাজ করছে বিজিবি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের সময়কে কেন্দ্র করে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় কাপড়, কসমেটিকস ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য প্রবেশের চেষ্টা বাড়ে। একই সঙ্গে মাদক পাচারকারীরাও সক্রিয় হয়ে ওঠে। তবে সাম্প্রতিক অভিযানের কারণে সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সীমান্তবর্তী বাসিন্দারা বলছেন, বিজিবির কঠোর অবস্থানের ফলে এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে অবৈধ পণ্য আনা-নেওয়া। সাধারণ মানুষও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব-উল হক বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। তিনি বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে। সীমান্ত পথে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার কিংবা চোরাচালানের সুযোগ দেওয়া হবে না। যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে চলবে।”

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সদস্যরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনক কোনো কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে দ্রুত বিজিবিকে তথ্য দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বর্তমানে ঈদকে ঘিরে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালাচ্ছে বিজিবি। সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অবৈধ পণ্য পাচার রোধে স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলে সীমান্ত অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে।

আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সচেতনতা সভা, কিশোর-কিশোরীদের ক্ষমতায়নের আহ্বান

ঈদে কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি, কোটি টাকার মাদক ও ভারতীয় পণ্য জব্দ

মে ২৪, ২০২৬

মোঃ আলমগীর হোসাইন,বিভাগীয় ব্যুরো চিফ,রংপুরঃ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কুড়িগ্রাম সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত পথে চোরাচালান, মাদক পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে দিন-রাত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। বিশেষ করে ঈদের আগে সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় পণ্য পাচার এবং মাদকের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। স্থানীয় বাসিন্দারাও বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির তৎপরতা আগের তুলনায় অনেক বেশি দৃশ্যমান হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত এক মাসে কুড়িগ্রাম সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে প্রায় ১ কোটি ৭১ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিকস, বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য, গাঁজা ও ইয়াবাসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য ও পণ্যগুলো আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সীমান্তের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত টহল এবং রাতভর নজরদারির কারণে চোরাকারবারিদের চলাচল অনেকটাই কমে এসেছে বলেও দাবি করেছে বাহিনীটি।

বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, সীমান্তবর্তী প্রতিটি বিওপি (বর্ডার আউট পোস্ট) থেকে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী নিয়মিত টহল পরিচালনার পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা। সীমান্ত এলাকায় সন্দেহভাজন চলাচল পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে নদীঘেঁষা এলাকা, চরাঞ্চল এবং দুর্গম সীমান্তপথে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে যাতে কোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ সংঘটিত না হয়, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও সমন্বয় করে কাজ করছে বিজিবি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের সময়কে কেন্দ্র করে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় কাপড়, কসমেটিকস ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য প্রবেশের চেষ্টা বাড়ে। একই সঙ্গে মাদক পাচারকারীরাও সক্রিয় হয়ে ওঠে। তবে সাম্প্রতিক অভিযানের কারণে সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সীমান্তবর্তী বাসিন্দারা বলছেন, বিজিবির কঠোর অবস্থানের ফলে এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে অবৈধ পণ্য আনা-নেওয়া। সাধারণ মানুষও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব-উল হক বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। তিনি বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে। সীমান্ত পথে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার কিংবা চোরাচালানের সুযোগ দেওয়া হবে না। যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে চলবে।”

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সদস্যরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনক কোনো কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে দ্রুত বিজিবিকে তথ্য দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বর্তমানে ঈদকে ঘিরে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালাচ্ছে বিজিবি। সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অবৈধ পণ্য পাচার রোধে স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলে সীমান্ত অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে।

আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সচেতনতা সভা, কিশোর-কিশোরীদের ক্ষমতায়নের আহ্বান