মোঃ আইয়ুবআলী,লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
নাটোরের লালপুর উপজেলায় কৃষিজমি ও নদী রক্ষায় গভীর রাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চলতে থাকা অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়েছে। শনিবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার পৃথক দুটি এলাকায় টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী দুই ব্যক্তিকে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং স্থানীয়রা প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেন।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ৩১ মে রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ঢুষপাড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে কৃষিজমির মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রির প্রস্তুতি চলছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযানে ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পাওয়ার পর শামীম (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে অবৈধ মাটি কাটা অপরাধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এরপর একই রাতে রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে উপজেলার কয়লারডহর এলাকায় পদ্মা নদীর চরসংলগ্ন স্থানে আরেকটি অভিযান চালানো হয়। সেখানে নদীর চর থেকে অনুমোদন ছাড়া মাটি উত্তোলনের অভিযোগে মো: মাহবুল ইসলাম (৪১) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে একই আইনে আরও ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধ মাটি কাটা কার্যক্রমের কারণে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক পরিবেশও হুমকির মুখে পড়ছিল। ফলে কঠোর অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনার সময় লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, গভীর রাতে অভিযান পরিচালনা করায় অভিযুক্তরা পালানোর সুযোগ পায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে ফসলি জমি ও নদীর চর থেকে মাটি কেটে বিক্রি করে আসছিল। এতে একদিকে যেমন কৃষিজমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙনের ঝুঁকিও বাড়ছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষিজমি, পরিবেশ ও পদ্মা নদী রক্ষায় অবৈধ মাটি কাটা এবং বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইন অমান্য করে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা মনে করছেন, নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে পরিবেশ ধ্বংসকারী কর্মকাণ্ড অনেকাংশে কমে আসবে এবং কৃষিজমি রক্ষা পাবে।
আরোও পড়ুন – লালপুরে বিদেশি পিস্তলসহ ৪ জন গ্রেফতার অস্ত্র উদ্ধার অভিযান
লালপুরে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে গভীর রাতে অভিযান, ২ জনকে ২ লাখ টাকা জরিমানা
মোঃ আইয়ুবআলী,লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
নাটোরের লালপুর উপজেলায় কৃষিজমি ও নদী রক্ষায় গভীর রাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চলতে থাকা অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়েছে। শনিবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার পৃথক দুটি এলাকায় টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী দুই ব্যক্তিকে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং স্থানীয়রা প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেন।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ৩১ মে রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ঢুষপাড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে কৃষিজমির মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রির প্রস্তুতি চলছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযানে ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পাওয়ার পর শামীম (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে অবৈধ মাটি কাটা অপরাধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এরপর একই রাতে রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে উপজেলার কয়লারডহর এলাকায় পদ্মা নদীর চরসংলগ্ন স্থানে আরেকটি অভিযান চালানো হয়। সেখানে নদীর চর থেকে অনুমোদন ছাড়া মাটি উত্তোলনের অভিযোগে মো: মাহবুল ইসলাম (৪১) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে একই আইনে আরও ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধ মাটি কাটা কার্যক্রমের কারণে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক পরিবেশও হুমকির মুখে পড়ছিল। ফলে কঠোর অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনার সময় লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, গভীর রাতে অভিযান পরিচালনা করায় অভিযুক্তরা পালানোর সুযোগ পায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে ফসলি জমি ও নদীর চর থেকে মাটি কেটে বিক্রি করে আসছিল। এতে একদিকে যেমন কৃষিজমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙনের ঝুঁকিও বাড়ছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষিজমি, পরিবেশ ও পদ্মা নদী রক্ষায় অবৈধ মাটি কাটা এবং বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইন অমান্য করে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা মনে করছেন, নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে পরিবেশ ধ্বংসকারী কর্মকাণ্ড অনেকাংশে কমে আসবে এবং কৃষিজমি রক্ষা পাবে।
আরোও পড়ুন – লালপুরে বিদেশি পিস্তলসহ ৪ জন গ্রেফতার অস্ত্র উদ্ধার অভিযান