
সমরেশ রায় ও শম্পা দাস,কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গঃ
নেহেরু মার্কেট সংযোগস্থলের বড়ুয়া পাড়া, নর্থ চব্বিশ পরগনার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা রেখা সিংহ আজ এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি একজন স্কুল শিক্ষক, গৃহিণী, মা এবং এখন ২০২৫ সালের যোগা চ্যাম্পিয়ন।
শৈশব থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিল শিক্ষকতা করা, এবং সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে রেখা সিংহ ‘মাল্টি টেলেন্টেড স্কুল’-এ শিক্ষকতা করছেন। পরিবারের দায়িত্ব, ছেলের দেখাশোনা এবং শিক্ষার কাজের পাশাপাশি তিনি নিজেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ করে তুলেছেন।
আজ তিনি মডেলিং, যোগা, আর্ট, স্কেটিং, হর্স রাইডিং এবং মাউথ অর্গান বাজানোয় সমান পারদর্শী। নিজের প্রতিভাকে বিকশিত করতে তিনি বহু শিক্ষক ও প্রশিক্ষকের সহযোগিতা পেয়েছেন — তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রদীপ গুড়িয়া, অমিত কুমার সামন্ত, দীপঙ্কর দে এবং অমিত কুমার দাস মহাশয়। রেখা সিংহ কৃতজ্ঞ এই সকল শিক্ষকদের প্রতি, যাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও দিকনির্দেশনায় তিনি এগিয়ে যেতে পেরেছেন।


পরিবারের পাশে আছেন স্বামী অনির্বাণ সিংহ, ছেলে এ. সিংহ, বাবা আশুতোষ সিংহ ও মা সুলোচনা সিংহ। তাঁদের নিরন্তর উৎসাহ ও সাহসই রেখার প্রেরণার উৎস।
সম্প্রতি ১২ অক্টোবর, দিঘা যোগা প্রতিযোগিতায় প্রায় ৫০ জন প্রতিযোগীকে পরাজিত করে রেখা সিংহ “দিঘা কাপ” অর্জন করেন। এরপর তিনি এশিয়া প্যাসিফিক মালয়েশিয়া যোগাসনে ফার্স্ট প্লেস হয়ে স্বর্ণপদক পান এবং পরে থাইল্যান্ডে থার্ড প্লেস পেয়ে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন।

শুধু যোগাই নয় — রেখা সিংহ ইন্টারন্যাশনাল মডেলিং প্রতিযোগিতায় ক্রাউন জিতেছেন, আর্ট এক্সিবিশনে শিক্ষক অমিত দাসের হাত থেকে সম্মাননা পেয়েছেন। একের পর এক সাফল্যে আজ তিনি জেলার গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছে গেছেন। ডিসেম্বর মাসে তিনি দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রেখা বলেন —
“প্রত্যেক শিক্ষক, বাবা-মা ও পরিবারের সাপোর্টই আমার প্রেরণা। আমি চাই সরকার যেন এই ধরনের মধ্যবিত্ত ঘরের প্রতিভাবান ছেলে-মেয়েদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে তারা আরও দূর এগিয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারবে।”
তাঁর স্বপ্ন — একদিন নিজের একটি স্কুল গড়ে ছোট ছোট শিশুদের নিজ হাতে গড়ে তোলা, যাতে তারা শিক্ষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে আত্মবিশ্বাসী নাগরিক হয়ে উঠতে পারে।