মাকসু নির্বাচনে দলীয় প্যানেল গঠনে নিষেধাজ্ঞা মাভাবিপ্রবিতে

মো: জিসান রহমান, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) গঠিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (মাকসু) নির্বাচনে দলীয় রাজনীতিনির্ভর কোনো প্যানেল বা ব্যানার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সদ্য প্রকাশিত গঠনতন্ত্রের খসড়ায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো প্রার্থী রাজনৈতিক সংগঠনের পরিচয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। তবে শিক্ষার্থীরা স্বাধীন ও অরাজনৈতিক ভিত্তিতে গ্রুপ বা প্যানেল গঠন করে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। এসব প্যানেল শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, নেতৃত্ব বিকাশ ও বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন ভাবনায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে।

খসড়া গঠনতন্ত্রে কেন্দ্রীয় সংসদের মোট ১৯টি এবং হলে ১৩টি পদ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদের ১৭টি পদে শিক্ষার্থীরা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধিকে বেছে নেবেন। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন উপাচার্য এবং কোষাধ্যক্ষ হবেন একজন শিক্ষক প্রতিনিধি। হল সংসদের ক্ষেত্রেও ১১টি পদে সরাসরি ভোট হবে, আর হলে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট হলের প্রাধ্যক্ষ।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি বছর উপাচার্যের নিয়োগকৃত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পূর্ণকালীন সকল বৈধ শিক্ষার্থী ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা রাখবেন। তবে একাধিক পদে প্রার্থী হওয়া নিষেধ করা হয়েছে। নির্বাচিতদের মেয়াদ নির্ধারিত হয়েছে এক বছর, প্রয়োজনে আরও ৯০ দিন বাড়ানো যেতে পারে।
প্রার্থীদের জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট জমা না দিলে মনোনয়ন বাতিল হবে। দণ্ডিত বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

মাভাবিপ্রবি কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (মাকসু) গঠন কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম জানান, শিক্ষার্থীদের আবেদন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইতোমধ্যে পুরো ক্যাম্পাসে দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সে কারণেই মাকসু নির্বাচনের খসড়া গঠনতন্ত্রে রাজনৈতিক প্যানেল নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে জোট বা গ্রুপ তৈরি করতে পারবেন।

তিনি বলেন,
“শিক্ষার্থীদের মতামতকে অগ্রাধিকার দিয়ে ৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে গঠনতন্ত্রের চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা তা পর্যালোচনা করে মতামত জানাতে পারবেন। আগামী ৮ নভেম্বর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনার পর ১১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে গঠনতন্ত্রের চূড়ান্ত সংস্করণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

উল্লেখ্য, ১২ আগস্ট ২০২৪ তারিখে রিজেন্ট বোর্ড ও একাডেমিক কাউন্সিলের যৌথ সভায় মাভাবিপ্রবিতে দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে ১৭ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মোহা. তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের পুরোপুরি দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।সৈনকিয়ান পূর্ণমিলনী ও নবীনবরণে মিলনমেলা মাভাবিপ্রবিতে

মাকসু নির্বাচনে দলীয় প্যানেল গঠনে নিষেধাজ্ঞা মাভাবিপ্রবিতে

নভেম্বর ৫, ২০২৫

মো: জিসান রহমান, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) গঠিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (মাকসু) নির্বাচনে দলীয় রাজনীতিনির্ভর কোনো প্যানেল বা ব্যানার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সদ্য প্রকাশিত গঠনতন্ত্রের খসড়ায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো প্রার্থী রাজনৈতিক সংগঠনের পরিচয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। তবে শিক্ষার্থীরা স্বাধীন ও অরাজনৈতিক ভিত্তিতে গ্রুপ বা প্যানেল গঠন করে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। এসব প্যানেল শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, নেতৃত্ব বিকাশ ও বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন ভাবনায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে।

খসড়া গঠনতন্ত্রে কেন্দ্রীয় সংসদের মোট ১৯টি এবং হলে ১৩টি পদ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদের ১৭টি পদে শিক্ষার্থীরা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধিকে বেছে নেবেন। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন উপাচার্য এবং কোষাধ্যক্ষ হবেন একজন শিক্ষক প্রতিনিধি। হল সংসদের ক্ষেত্রেও ১১টি পদে সরাসরি ভোট হবে, আর হলে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট হলের প্রাধ্যক্ষ।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি বছর উপাচার্যের নিয়োগকৃত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পূর্ণকালীন সকল বৈধ শিক্ষার্থী ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা রাখবেন। তবে একাধিক পদে প্রার্থী হওয়া নিষেধ করা হয়েছে। নির্বাচিতদের মেয়াদ নির্ধারিত হয়েছে এক বছর, প্রয়োজনে আরও ৯০ দিন বাড়ানো যেতে পারে।
প্রার্থীদের জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট জমা না দিলে মনোনয়ন বাতিল হবে। দণ্ডিত বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

মাভাবিপ্রবি কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (মাকসু) গঠন কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম জানান, শিক্ষার্থীদের আবেদন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইতোমধ্যে পুরো ক্যাম্পাসে দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সে কারণেই মাকসু নির্বাচনের খসড়া গঠনতন্ত্রে রাজনৈতিক প্যানেল নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে জোট বা গ্রুপ তৈরি করতে পারবেন।

তিনি বলেন,
“শিক্ষার্থীদের মতামতকে অগ্রাধিকার দিয়ে ৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে গঠনতন্ত্রের চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা তা পর্যালোচনা করে মতামত জানাতে পারবেন। আগামী ৮ নভেম্বর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনার পর ১১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে গঠনতন্ত্রের চূড়ান্ত সংস্করণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

উল্লেখ্য, ১২ আগস্ট ২০২৪ তারিখে রিজেন্ট বোর্ড ও একাডেমিক কাউন্সিলের যৌথ সভায় মাভাবিপ্রবিতে দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে ১৭ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মোহা. তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের পুরোপুরি দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।সৈনকিয়ান পূর্ণমিলনী ও নবীনবরণে মিলনমেলা মাভাবিপ্রবিতে