
হারুনুর রশিদ, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর সাপাহার উপজেলার খ্যাতনামা জবই বিলে দীর্ঘ কয়েক মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকার পর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ২৫তম বার্ষিক মৎস্য আহরণ ও ‘বিল বাইচ’। সোমবার দুপুর ১২টায় বাগডাঙ্গা ঘাটে মাছ ধরার উদ্বোধন করেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোমানা রিয়াজ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক এম. এ. মমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাদিয়া আফরিন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফরিদুল ইসলাম, সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জ আনারুল ইসলাম এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রেজিনা পারভিন। এছাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার জাহান চৌধুরী লাবু এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামের আমীর আবুল খায়ের তরুণও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা মৎস্য দপ্তর জানায়, গত বছরের তুলনায় এবারের মাছের সংখ্যা ও ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বছর জবই বিল থেকে প্রায় ৭৫০ মেট্রিক টন মাছ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৩০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
উদ্বোধনী দিনে প্রায় ৮৫০ জন মৎস্যজীবী নৌকা ও জাল নিয়ে উপস্থিত হন। জেলেরা জানান, ইতিমধ্যেই জালে ৩০ কেজি ওজনের বোয়াল, ২২ কেজি ওজনের বিগহেড, ১৫ কেজি ওজনের কাতলাসসহ রুই, মৃগেল, আইড়, বাগাড়, পাবদা ও খড়িশোলা মাছ ধরা পড়ছে। মৎস্যজীবী ও স্থানীয় চাষিরা এই প্রাচুর্য দেখে আনন্দিত।
জবই বিলে মাছ ধরা স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। ধরা মাছ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়, বিশেষ করে ঢাকার কারওয়ান বাজারে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনায় মাছ আহরণ চলমান থাকবে।
উৎসবমুখর পরিবেশে জবই বিল এখন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। মাছ আহরণের এই প্রক্রিয়া শুধুমাত্র মৎস্যজীবীদের জন্য নয়, পুরো এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক গতিশীলতাকেও সমৃদ্ধ করছে। স্থানীয় প্রশাসন, মৎস্য দপ্তর ও মৎস্যজীবীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রতিবছর এই আহরণ সফলভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।
সাপাহারের জবই বিল মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় জীবিকার উন্নয়নে একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।