
সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহীঃ
রাজশাহী নগরীর একটি পরিচিত পর্যটন বারে দীর্ঘদিন ধরেই নিয়ম বহির্ভূতভাবে মদ বিক্রি ও পরিবেশন চলার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বিধিনিষেধ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের বাইরে এবং বয়স যাচাই ছাড়াই মদ বিক্রি করা হলেও কার্যকর কোনো নজরদারি চোখে পড়ছে না। ফলে নগরীর শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজ ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ এক বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে।
নিয়ম অনুযায়ী যেসব বারের লেট নাইট অনুমোদন নেই, সেখানে রাত ১১টার পর মদ বিক্রি বা পরিবেশন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি ২১ বছরের কম বয়সীদের কাছে মদ বিক্রি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, বারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় রাত পর্যন্ত তরুণ ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর গেটের মাধ্যমে গোপনে মদ সরবরাহ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
রাতের বেলায় মদ কিনতে হলে সাধারণ দামের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে উৎসবকেন্দ্রিক সময়গুলোতে এই অতিরিক্ত মূল্য আরও বেড়ে যায়। নিউ ইয়ার, পহেলা বৈশাখ, ঈদ কিংবা পূজার মতো দিনগুলোতে মদ্যপানের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় অনেক তরুণ মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন, যা জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
খাবার পরিবেশন নিয়েও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। বারের ভেতরে সাধারণ মানের খাবারও অস্বাভাবিক উচ্চ দামে বিক্রি করা হচ্ছে। বাইরে যেখানে ২০–৩০ টাকায় পাওয়া যায় এমন সাধারণ নাস্তা, সেখানে বারে তার দাম কয়েক গুণ বেশি নেওয়া হচ্ছে। বাইরে থেকে খাবার আনার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় ভোক্তারা বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত দামে খাবার কিনছেন।
বার পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অভিযোগ উঠে এসেছে। রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে লাইসেন্স ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো সামাল দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের মুখে মুখে। বারের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত কিছু ব্যক্তির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে, যা পরবর্তীতে গোপনে মুছে ফেলা হলেও তথ্য পুরোপুরি অদৃশ্য হয়নি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উক্ত বারের লেট নাইট অনুমোদন নেই এবং অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সরেজমিনে অনুসন্ধান চালানোর কথা জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও বারের লাইসেন্স শর্ত একসঙ্গে লঙ্ঘিত হলে শুধু আইনগত ব্যবস্থা নয়, সামাজিক সচেতনতা ও প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করাও জরুরি। পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকলে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী ও তরুণরা আরও বড় ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। একই সঙ্গে ভোক্তারা নিয়মিতভাবে অতিরিক্ত দামে খাবার ও পানীয় কিনতে বাধ্য হওয়ার প্রবণতা বন্ধ করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।