
নিউজ ডেস্কঃ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখ্যপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বীন হাদির মৃত্যুর ১৪ দিন এবং তার ওপর সশস্ত্র হামলার ২১ দিন পার হলেও এখনো মূল আসামি গ্রেপ্তারের বাইরে রয়েছে। এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে ক্রমেই প্রশ্ন ও উদ্বেগ বাড়ছে।
গত ১২ ডিসেম্বর বিকেল আনুমানিক ২টা ২৫ মিনিটে ঢাকার পল্টন এলাকার একটি মসজিদে নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই আততায়ী শরীফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি তার মাথায় আঘাত হানে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।
দীর্ঘ প্রায় ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। অনেকেই এই হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করছেন।
ঘটনার এতদিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত হত্যার মূল অভিযুক্ত ফয়সালসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এরই মধ্যে হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি ফয়সালের কয়েকটি ভিডিওবার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, তিনি দুবাইয়ে অবস্থান করছেন।
তবে এসব ভিডিওর বিপরীতে ভিন্ন দাবি তুলে ধরেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, মূল আসামি ফয়সাল এখনো বাংলাদেশেই রয়েছেন এবং তিনি ঢাকার ডিওএইচএস এলাকায় কোনো এক সেনাবাহিনীর কর্মকর্তার বাসায় আত্মগোপনে আছেন। এই পরস্পরবিরোধী দাবিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে।
এদিকে শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবস্থিত ইনকিলাব মঞ্চে টানা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সেখানে হামলার সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে নানা স্লোগান দেওয়া হচ্ছে।
এই আন্দোলনে শুধু ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরাই নয়, সাধারণ ছাত্র-জনতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন একাত্মতা প্রকাশ করেছে। অনেকেই এটিকে ন্যায়বিচারের দাবিতে একটি গণআন্দোলনে রূপ নেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডে দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও মূল আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতাকেই তুলে ধরছে। তারা মনে করছেন, যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও গভীর হবে।
এ ঘটনায় দেশের সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—এত তথ্য, ভিডিওবার্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবস্থান সংক্রান্ত দাবি থাকা সত্ত্বেও মূল আসামি কেন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে? রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি আদৌ এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে পারবে?
শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড কেবল একটি ব্যক্তিগত মৃত্যু নয়; এটি দেশের রাজনৈতিক সহনশীলতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, এই হত্যার বিচার কত দ্রুত ও কতটা স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়।