
স্টাফ রিপোর্টার | নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মনিরুল আলম সেন্টুকে নিয়ে দলীয় সিদ্ধান্তে ফের নাটকীয় মোড় দেখা দিয়েছে। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের মাত্র একদিনের মাথায় পুনরায় তার বহিষ্কারাদেশ বহাল রেখেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
২ জানুয়ারি (শুক্রবার) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পূর্বে জারি করা বহিষ্কারাদেশ বহাল থাকবে এবং এ বিষয়ে দলীয় অবস্থানে কোনো পরিবর্তন নেই।
এর আগে ১ জানুয়ারি (শনিবার) একই নেতা রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত আরেকটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মনিরুল আলম সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। হঠাৎ করে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। অনেকেই এটিকে সেন্টুর রাজনীতিতে ফেরার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছিলেন।
তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বহিষ্কারাদেশ পুনর্বহালের ঘটনায় তৃণমূল থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তহীনতার সমালোচনা করছেন, আবার কেউ কেউ বলছেন—দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচারণা চালান মনিরুল আলম সেন্টু। ওই সময় একটি নির্বাচনী অনুষ্ঠানে নৌকা প্রতীকে ভোট চাওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী উল্লেখ করে তৎকালীন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।
দীর্ঘদিন বহিষ্কৃত থাকার পর হঠাৎ করে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার এবং পরদিনই তা পুনর্বহাল হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলীয় অভ্যন্তরীণ চাপ, স্থানীয় রাজনীতির বাস্তবতা ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের সমন্বয়হীনতাই এই পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে মনিরুল আলম সেন্টুর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিএনপির স্থানীয় নেতারা বলছেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
