
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে এক এমপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন সমর্থিত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী গোলাম মসীহকে আর্থিক জরিমানা করা হয়। ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি করেছে।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার দুপুরে সোনারগাঁ পৌরসভার মুন্সীরাইল এলাকায় অবস্থিত পোদ্দার বাড়ি নামে পরিচিত গোলাম মসীহর নিজস্ব বাসভবনে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে কয়েকশ নারীকে একত্রিত করে একটি ধর্মীয় তালিমের আয়োজন করা হয়। ওই তালিমকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো এবং নির্দিষ্ট প্রতীকের পক্ষে ভোট চাওয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আয়োজনটি পরিচালিত হয় গোলাম মসীহর সহধর্মিণী বেগম ঝিনুকের তত্ত্বাবধানে। সেখানে উপস্থিত নারীদের একটি অংশের মধ্যে হাতপাখা প্রতীকের পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), কাঁচপুর সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফাইরুজ তাসনিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় অভিযুক্ত প্রার্থীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে এমপি প্রার্থী গোলাম মসীহের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং কোনো প্রার্থী বা সমর্থকই এর বাইরে নয়।
এদিকে ঘটনাটি সোনারগাঁসহ পুরো নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, নির্বাচনের সময় ধর্মীয় বা সামাজিক আয়োজনের আড়ালে প্রচারণা চালানো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা প্রশাসনের এমন তৎপরতাকে স্বাগত জানালেও ভবিষ্যতে আরও নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়ে আগামীতেও নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত থাকবে। কোনো ধরনের গোপন বা প্রকাশ্য প্রচারণা, প্রলোভন কিংবা আচরণবিধি পরিপন্থী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।