
শাহরিয়ার খান নাফিজ, হবিগঞ্জঃ
হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলায় শীত মৌসুমের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে ঐতিহ্যবাহী বড়বাজার এলাকা। এখানকার বহু পুরোনো লোকজ সংস্কৃতির ধারক পৌষ মেলা শুরু হওয়ায় পুরো অঞ্চলজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবের আবহ। বছরের এই সময়টিতে গ্রামীণ জনজীবনের চেনা ছন্দ যেন নতুন রঙে রাঙিয়ে তোলে বড়বাজার ও আশপাশের জনপদকে।
পৌষ মাসের শেষ প্রান্তে আয়োজিত এই মেলা বানিয়াচংয়ের মানুষের কাছে শুধু একটি বার্ষিক আয়োজন নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে লালিত সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক। সকাল থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে মানুষের ঢল নামে এবং দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বাড়তে থাকে। নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রবীণ—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে বড়বাজার পরিণত হয় প্রাণবন্ত জনসমুদ্রে।
মেলার বিস্তৃত এলাকাজুড়ে সাজানো হয়েছে নানা ধরনের দোকান ও স্টল। গ্রামীণ হস্তশিল্প, মাটির তৈরি তৈজসপত্র, বাঁশ ও বেতের সামগ্রী, ঐতিহ্যবাহী খেলনা এবং মৌসুমি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। শীতের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে বাহারি পিঠা-পুলি ও দেশীয় খাবারের সমাহার, যা গ্রামীণ স্বাদের সঙ্গে শহুরে মানুষের স্মৃতিকে নতুন করে জাগিয়ে তুলছে।
শিশুদের বিনোদনের জন্য মেলায় আলাদা আয়োজন চোখে পড়ার মতো। নাগরদোলা, ঘোড়ার গাড়ি, পুতুলনাচ ও জাদু প্রদর্শনী ছোটদের আনন্দে ভরিয়ে তুলছে। একই সঙ্গে এসব লোকজ বিনোদন নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামীণ ঐতিহ্যকে তুলে ধরার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা এই পরিবেশে সময় কাটিয়ে পাচ্ছেন স্বস্তি ও আনন্দ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে পৌষ মেলা সামাজিক মিলনস্থল হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনেরা একত্রিত হন এই মেলাকে কেন্দ্র করে। দীর্ঘ সময় পর দেখা হওয়া মানুষদের মধ্যে কুশল বিনিময় ও গল্পের আড্ডায় মেলার পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত।
মেলার আয়োজন ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বাড়তি কর্মচাঞ্চল্য অনুভব করছেন। অস্থায়ী দোকান, খাবারের স্টল ও বিনোদনের ব্যবস্থার মাধ্যমে অনেকের জন্য সৃষ্টি হয়েছে মৌসুমি আয়ের সুযোগ। এতে করে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে বানিয়াচং বড়বাজারের পৌষ মেলা এখন শুধু একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন নয়, বরং গ্রামীণ সংস্কৃতি সংরক্ষণ, সামাজিক বন্ধন দৃঢ়করণ এবং শীতের দিনে মানুষের আনন্দ-বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে নিজস্ব গুরুত্ব ধরে রেখেছে।