
বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
শরণখোলা উপজেলার একাধিক খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। এতে কৃষিকাজ, মৎস্যচাষ ও দৈনন্দিন ব্যবহারযোগ্য পানির চরম অভাবে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
বাগেরহাট জেলার এই উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে খাল সংস্কার ও পুনঃখনন না হওয়ায় পানি প্রবাহ সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
শরণখোলায় খাল ভরাটে কৃষি ও জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব
সরেজমিনে দেখা যায়, খোন্তাকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম রাজৈর গ্রাম সংলগ্ন গোলবুনিয়া খালটি মাটি ও আবর্জনায় ভরে প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও প্রভাবশালীদের দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগও উঠেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয় এবং শুকনো মৌসুমে চরম পানির সংকট দেখা দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা লালমিয়া তালুকদার ও নুরুজ্জামান ফরাজি জানান, আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে কিছুটা পানি থাকলেও শুকনো মৌসুমে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ খালগুলো সম্পূর্ণ শুকিয়ে যায়। ফলে কৃষি ও গৃহস্থালি কাজে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়।
একই এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা সাকাওয়াত হোসেন আকন, তাসলিমা আক্তার ও কৃষক আলমগীর হাওলাদার বলেন, গোলবুনিয়া খালটি বহু বছর ধরে ভরাট হয়ে আছে। একাধিকবার চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে গোসল, থালাবাটি ধোয়া এমনকি বাথরুম ব্যবহারের মতো পানিও পাওয়া যাচ্ছে না।
এছাড়া পশ্চিম রাজৈর গ্রামের ফসলি মাঠ ভেদ করে যাওয়া ভারানীর খালটি পুরোপুরি ভরাট হয়ে যাওয়ায় ব্রো ধান চাষে মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। পানির অভাবে রোপণ করা ধানের চারা নষ্ট হয়ে গেছে বলেও জানান কৃষকরা।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত খাল পুনঃখনন ও দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে আগামী মৌসুমে সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার জানান, সংশ্লিষ্ট খালগুলো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রকল্প, বিএডিসি ও বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে খাল পুনঃখনন করা হবে। তবে অর্থ বরাদ্দ দ্রুত পেতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন হওয়ায় কিছুটা সময় লাগতে পারে।
আরোও পড়ুন - বাগেরহাট-৪ আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী শিপন