
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইরান যুদ্ধের ২৪তম দিনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান এই সংঘাত এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি বাজার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর পূর্ণ প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে। তবে উত্তরাঞ্চলের কুর্দি নিয়ন্ত্রিত এলাকা এই সিদ্ধান্তের বাইরে রাখা হয়েছে। বাগদাদের ভিক্টোরিয়া ঘাঁটি থেকে সেনা সরানোর সময় ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ২৪ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশসহ ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনে তেলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এতে অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরান এবং পশ্চিম ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইসরায়েল লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। ফলে পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরিকল্পিত হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তবে ইরান এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো সরাসরি আলোচনা হয়নি।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ৯ এপ্রিলের মধ্যে এই যুদ্ধ শেষ করতে চায়।
ইরাকের মসুল থেকে ছোড়া রকেট উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। একই সময়ে ইরানের ইসফাহান ও খোররামশাহর অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারকে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সমন্বয়কারী হিসেবে বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলি স্থলবাহিনীর একটি বড় অংশকে আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এতে উত্তর ইসরায়েলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রথমে কিছুটা কমলেও বর্তমানে আবার বাড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এই অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধের ২৪তম দিনে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও জ্বালানি সংকট—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে আসন্ন কয়েক দিনের কৌশলগত ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।
আরোও পড়ুন - ইরান ইসরায়েল যুদ্ধ দীর্ঘ হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব