
এনায়েত করিম রাজিব, বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে মাঠের পর মাঠ জুড়ে এখন হলুদ রঙের সমারোহ। সূর্যমুখী চাষে বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি। এ বছর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে সূর্যমুখী চাষ করে স্বল্প সময়ে অধিক লাভের আশায় বুক বাঁধছেন স্থানীয় কৃষকরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৩৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। এসব ক্ষেত এখন মনোমুগ্ধকর দৃশ্যে রূপ নিয়েছে, যা দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, পানগুছি নদীর তীরবর্তী কাঁঠালতলা গ্রামে এক সময় পতিত পড়ে থাকা জমিতে এখন সূর্যমুখী চাষ করে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। আমন ধান কাটার পর যে জমি অব্যবহৃত থাকত, সেখানে এবার চাষাবাদ করে লাভবান হওয়ার আশা করছেন অর্ধশতাধিক কৃষক পরিবার।
কৃষক মনির মোল্লা জানান, তিনি সাড়ে ৪ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার পেয়ে তিনি মোট ৩ হাজার টাকা খরচ করেছেন। ফলন হিসেবে প্রায় ৩ মন বীজ পাবেন, যার বাজার মূল্য প্রায় ১২ হাজার ৬০০ টাকা।
স্থানীয় বাজারে প্রতি লিটার সূর্যমুখী তেলের দাম ৩০০ টাকার বেশি। কৃষকরা বলছেন, নিজেদের উৎপাদিত তেল দিয়ে পরিবারের চাহিদা পূরণ করেও বাজারজাত করা সম্ভব। এতে একদিকে যেমন ভেজালমুক্ত তেল পাওয়া যাবে, অন্যদিকে আয় বাড়বে কৃষকদের।
একইভাবে রহমান হাওলাদার, সগির ঘরামী, আলতাব সেখ, খালেক সেখ, জাকির ঘরামী, চান মাঝি ও মহারাজ খা-সহ অনেকেই বিভিন্ন পরিমাণ জমিতে সূর্যমুখী চাষ করে ভালো ফলনের আশা করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মোরেলগঞ্জে মোট ১৩৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়নে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে চাষাবাদ হয়েছে, যা কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
আরোও পড়ুন - গুচ্ছগ্রামের নারী-যুবকদের স্বাবলম্বী করতে মোরেলগঞ্জে চালু হলো ব্লু-বিকন স্কিল একাডেমি