
কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি: নুরুন্নবী চৌধুরী
সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে রায়গঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ভাতা বঞ্চিত সমাধান নিশ্চিত করা। ইউনিয়নের আওতাভুক্ত বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা ভোগীদের মধ্যে যারা এখনো সরকারি ভাতার অর্থ পাননি, তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের জন্য এই বিশেষ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা তাদের প্রাপ্য অধিকার ফিরে পাবেন এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন।
ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৭ এপ্রিল ২০২৬ (মঙ্গলবার) সকাল ৯টায় রায়গঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। এতে সকল ভাতা বঞ্চিত সমাধান প্রত্যাশী ব্যক্তিদের সশরীরে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। উপস্থিতির সময় অবশ্যই নিজস্ব মোবাইল ফোন, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড (যদি থাকে) সঙ্গে নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সঠিক তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়াই এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য।
জানা গেছে, এদিন সমাজসেবা অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরাসরি উপস্থিত থেকে ভুক্তভোগীদের সমস্যাগুলো শুনবেন এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, যা ভাতা বঞ্চিত সমাধান প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করবে। অনেক ক্ষেত্রে তথ্যগত ত্রুটি, মোবাইল নম্বর সংক্রান্ত জটিলতা কিংবা নিবন্ধন সমস্যার কারণে ভাতা প্রাপ্তিতে বিলম্ব হচ্ছে। এসব সমস্যা যাচাই-বাছাই করে তাৎক্ষণিক সংশোধনের মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীদের ভাতা নিশ্চিত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে আরও জানা যায়, বর্তমান ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় ভাতা বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় অনেকেই প্রযুক্তিগত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, যার ফলে ভাতা বঞ্চিত সমাধান প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবীণ ও অশিক্ষিত জনগোষ্ঠী এই জটিলতার কারণে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। তাই এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সহজভাবে সমাধান করার চেষ্টা করা হবে, যাতে কেউ আর প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত না থাকেন।
এ বিষয়ে ২ নং রায়গঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান দ্বীপ মন্ডল বলেন, “আমাদের ইউনিয়নের কোনো ভাতা ভোগী যেন তার প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত না হন, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। যারা এখনো ভাতার টাকা পাননি, তারা নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে যাচাই-বাছাই করে ভাতা বঞ্চিত সমাধান নিশ্চিত করুন। আমরা সব সময় জনগণের পাশে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।” তার এই বক্তব্যে পরিষদের জনকল্যাণমূলক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
তিনি আরও ইউনিয়নবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য, যাতে কোনো ভুক্তভোগী এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন। শেষ পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে পুনরায় অনুরোধ জানানো হয়েছে—সকল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে নিজেদের সমস্যা সমাধান করুন এবং অন্যদেরও জানাতে সহায়তা করুন। এতে করে সার্বিকভাবে ভাতা বঞ্চিত সমাধান কার্যক্রম সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
আরোও পড়ুন - শিশুদের হাম সতর্কতা: অভিভাবকদের জরুরি বার্তা দিলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ