
সারোয়ার আলম রিজন, হাবিপ্রবি (দিনাজপুর)
বর্ণিল আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ২৫তম হাবিপ্রবি দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করে, যেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়। বুধবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) সকাল থেকেই ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে এবং আনন্দঘন পরিবেশে পুরো দিনটি উদযাপিত হয়।
দিনের শুরুতে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ৫০০০ মিটার মিনি ম্যারাথনের উদ্বোধনের মাধ্যমে হাবিপ্রবি দিবস উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা এবং প্রোভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম সিকদার। এ সময় ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম. জাহাঙ্গীর কবিরসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান এবং সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে ফেস্টুন ও বেলুন উড্ডয়ন এবং শান্তির প্রতীক পায়রা অবমুক্ত করা হয়, যা অনুষ্ঠানে এক ভিন্নমাত্রা যোগ করে। এরপর শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে প্রধান সড়ক হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। হাবিপ্রবি দিবস উপলক্ষে এই র্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।
র্যালি শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহান শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর টিএসসি প্রাঙ্গণে ‘মজার ইস্কুল’-এর শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয় এবং শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে কেক কেটে উদযাপন করা হয় ২৫তম হাবিপ্রবি দিবস, যা অনুষ্ঠানে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে ভাইস-চ্যান্সেলর তার বক্তব্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সকলকে শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা ও সম্পদের সঠিক ব্যবহারের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। হাবিপ্রবি দিবস উপলক্ষে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
দিবসের দ্বিতীয় পর্বে ভাইস-চ্যান্সেলর, প্রোভাইস-চ্যান্সেলর ও ট্রেজারার দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে অবস্থিত হাজী মোহাম্মদ দানেশের কবর জিয়ারত করেন এবং তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরবর্তীতে ফরিদপুর কবরস্থানে গিয়ে প্রয়াত মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী খুরশীদ জাহান হকের কবরেও শ্রদ্ধা জানান।
সবশেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে দিনব্যাপী হাবিপ্রবি দিবস উদযাপন কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
আরোও পড়ুন - হাবিপ্রবি আন্তর্জাতিক কনফারেন্স শুরু | ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স সম্মেলনে ৩০০ গবেষক