
মো:জিসান রহমান,মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
মাভাবিপ্রবি প্রক্টর পদত্যাগ ঘটনায় টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গুরুতর অনিয়ম, অভিযুক্তদের রক্ষার অভিযোগ এবং প্রশাসনিক নানা বিতর্কের জেরে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. ইমাম হোসেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. সাজ্জাদ ওয়াহিদ আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ প্রকাশ্যে রূপ নেয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মাভাবিপ্রবি প্রক্টর পদত্যাগ এর পরপরই প্রক্টরিয়াল কমিটির জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী প্রক্টর মো. নান্নুর রহমানকে সাময়িকভাবে প্রক্টরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন প্রক্টর নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলেও জানানো হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, শুধুমাত্র পদত্যাগে সমস্যার সমাধান হবে না; বরং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে।
ক্যাম্পাস সূত্রে আরও জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে প্রক্টরকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভে রূপ নেয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত কিছু শিক্ষককে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রক্টর পরিকল্পিতভাবে ‘সেইফ এক্সিট’ নিশ্চিত করেছেন। বিশেষ করে ৫ আগস্টের আন্দোলনের বিরোধিতাকারী সাবেক সহকারী প্রক্টর শাকিল মাহমুদ শাওনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি ওঠে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যার সঙ্গে পদত্যাগী প্রক্টরের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন। এসব ঘটনার পর মাভাবিপ্রবি প্রক্টর পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীরা একাধিকবার লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার চেষ্টা করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ চরমে পৌঁছে যায় এবং তারা আন্দোলনের ঘোষণা দেয়।
পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এতে পুরো ক্যাম্পাস অচল হয়ে পড়ে এবং প্রশাসন চাপে পড়ে। একপর্যায়ে উদ্ভূত সংকট নিরসন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাভাবিপ্রবি প্রক্টর পদত্যাগ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এই ঘটনাকে শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলনের প্রাথমিক সফলতা হিসেবে দেখছেন।
শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষিত ক্যাম্পাসে প্রক্টর নিজেকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচয় দিতেন এবং ভিন্নমতের শিক্ষকদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ করতেন। অনেকেই অভিযোগ করেন, সংকটময় পরিস্থিতিতে তাকে পাশে পাওয়া যেত না, তবে ছোটখাটো বিষয়ে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করতেন। এসব কারণে তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের মুখে মাভাবিপ্রবি প্রক্টর পদত্যাগ বাস্তবতায় পরিণত হয়।
আরোও পড়ুন - মাভাবিপ্রবি প্রক্টর পদত্যাগ দাবি: প্রশাসনিক ভবনে তালা, উপাচার্য অবরুদ্ধ