
ডেস্ক রিপোর্ট | ১২ এপ্রিল, ২০২৬
পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর ঐতিহ্যবাহী উৎসব উপলক্ষে পাহাড়ি উৎসব শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (১২ এপ্রিল) এক বাণীতে তিনি বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান, চাংলান এবং বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, এই উৎসবগুলো কেবল একটি সম্প্রদায়ের নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।
শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্য বাংলাদেশের সামগ্রিক জাতীয় পরিচয়কে আরও সমৃদ্ধ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির সম্মিলনই আমাদের জাতিকে অনন্য করে তুলেছে। পাহাড়ি উৎসব শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এই উৎসবগুলো মানুষে মানুষে ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা জাতীয় ঐক্যকে সুদৃঢ় করে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের উৎসবই জাতীয় জীবনের অংশ। তিনি বলেন, “আমাদের দেশের সকল জনগোষ্ঠীর সমান অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।” পাহাড়ি উৎসব শুভেচ্ছা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, পাহাড় কিংবা সমতলে বসবাসকারী প্রত্যেক বাংলাদেশি সমান সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রাখে, যা সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার দেশের সকল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক বিকাশে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উৎসব দেশের শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে তিনি আশাবাদী। পাহাড়ি উৎসব শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি প্রত্যাশা করেন, এই আনন্দঘন মুহূর্ত দেশের মানুষের জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তির বার্তা বয়ে আনবে।
পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী প্রতিবছর চৈত্র সংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বর্ণিল আয়োজনে এসব উৎসব পালন করে থাকে। এসব আয়োজন একদিকে যেমন ঐতিহ্যকে ধারণ করে, অন্যদিকে তেমনি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির এক অনন্য বন্ধন তৈরি করে। পাহাড়ি উৎসব শুভেচ্ছা উপলক্ষে আয়োজিত এই উৎসবগুলো এখন জাতীয় পর্যায়ে এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং প্রেরিত শুভেচ্ছা বাণী।
আরোও পড়ুন - সাংগ্রাই পোয়ে উৎসব শুরু বান্দরবানে | মারমা সম্প্রদায়ের মৈত্রী বর্ষণ ২০২৬