
জাহিদুল হক, শেরপুর প্রতিনিধিঃ
শেরপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী জমজ দুই ভাই রাকিবুল হাসান রনি ও শাকিবুল হাসান জনি একসঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়ে অনন্য এক নজির স্থাপন করেছেন। একই দিনে জন্ম, একই পরিবেশে বেড়ে ওঠা এবং একই শিক্ষাপথে এগিয়ে চলা এই দুই ভাই এবার উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও দেখিয়েছেন অভিন্ন সাফল্য। তাদের এই জমজ ভাইয়ের সাফল্য শুধু পরিবারের গণ্ডি পেরিয়ে পুরো এলাকায় আনন্দ ও গর্বের আবহ তৈরি করেছে, যা স্থানীয়দের কাছে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
শেরপুর সদর উপজেলার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মোবারকপুর বাঁশতলা গ্রামের বাসিন্দা এই দুই ভাই-ই প্রথম, যারা তাদের এলাকা থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। ফলে তাদের এই অর্জনকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, এমন জমজ ভাইয়ের সাফল্য প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য এক শক্তিশালী অনুপ্রেরণা, যা প্রমাণ করে যে প্রতিকূলতা পেরিয়েও দৃঢ় মনোবল ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে বড় সাফল্য অর্জন সম্ভব।
শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই রনি ও জনি ছিলেন একে অপরের সহযাত্রী। তারা শেরপুর সরকারি ভিক্টোরিয়া একাডেমি থেকে মাধ্যমিক এবং পরবর্তীতে শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। নিয়মিত অধ্যয়ন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং অভিন্ন লক্ষ্য তাদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। তাদের এই জমজ ভাইয়ের সাফল্য মূলত দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও দৃঢ় প্রত্যয়ের ফল, যা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় শাকিবুল হাসান জনি শিফট-১-এ মেধাতালিকায় ১৬৫৭তম হয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে এবং রাকিবুল হাসান রনি শিফট-২-এ ২৭৫৪তম হয়ে পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। বর্তমানে তারা সাবজেক্ট মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া চালু রেখেছেন, যাতে আরও পছন্দসই বিষয়ে অধ্যয়নের সুযোগ পান। তাদের এই জমজ ভাইয়ের সাফল্য ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
রাকিবুল হাসান রনি বলেন, “আমরা তিন ভাই-বোন। আমাদের বড় বোনও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। বাবা-মা অনেক কষ্ট করে আমাদের বড় করেছেন। আমরা চাই প্রতিষ্ঠিত হয়ে তাদের কষ্টের প্রতিদান দিতে।” তিনি আরও জানান, জমজ হলেও তিনি পাঁচ মিনিটের বড়,যা তাদের সম্পর্কের একটি মধুর দিক।
শাকিবুল হাসান জনি বলেন, “অনেকেই ধারণা করেছিলেন আমরা আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাবো। তবে আমাদের বাবা-মায়ের দোয়া ছিল আমরা যেন একসঙ্গে পড়তে পারি। আল্লাহর রহমতে সেটাই সম্ভব হয়েছে।” তিনি জানান, এই জমজ ভাইয়ের সাফল্য তাদের পরিবারের জন্য এক অবর্ণনীয় আনন্দের মুহূর্ত এনে দিয়েছে।
তাদের পিতা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “ভর্তি মৌসুমে আমরা দুশ্চিন্তায় ছিলাম দুই ভাই আলাদা হয়ে যায় কিনা। কিন্তু তারা একসঙ্গে দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েছে-এটা আমাদের জন্য গর্বের।” তিনি আরও বলেন, তার তিন সন্তানই এখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, যা তার জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি।
শেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবদুর রউফ বলেন, “রনি ও জনির এই অর্জন আমাদের কলেজের জন্য অত্যন্ত গর্বের। তারা দুজনই মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী ছিল। তাদের এই সাফল্য ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে।”
স্থানীয়দের মতে, একই পরিবারের দুই সন্তানের এমন জমজ ভাইয়ের সাফল্য শুধু একটি পরিবারের গর্ব নয়, বরং পুরো এলাকার জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এই অর্জন প্রমাণ করে, ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।
আরোও পড়ুন - মাভাবিপ্রবির শিক্ষক দম্পতি একই সঙ্গে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন: অসাধারণ সাফল্যের গল্প