
শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলাসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র জ্বালানি সংকট এখন সরাসরি কৃষকের জীবনে আঘাত হানছে। এই তেল সংকট ধান উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করেছে। ডিজেলের অভাবে ইরি-বোরো মৌসুমে সেচ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে, ফলে কৃষি নির্ভর অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়েছে। মাঠজুড়ে পানির অভাবে ধানক্ষেত শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে, যা কৃষকদের চরম দুশ্চিন্তায় ফেলেছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বর্তমানে দোহার-নবাবগঞ্জ অঞ্চলে ইরি-বোরো ধান পাকার গুরুত্বপূর্ণ সময় চলছে। এই সময় নিয়মিত সেচ না পেলে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায়। কিন্তু চলমান তেল সংকট ধান উৎপাদনের এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপকে থামিয়ে দিয়েছে। স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে ‘ডিজেল নেই’ নোটিশ ঝুলতে থাকায় কৃষকরা চাহিদামতো জ্বালানি পাচ্ছেন না। ফলে সেচ পাম্প বন্ধ থাকায় ধানের শিষ সাদা হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে, যা বড় ধরনের উৎপাদন ক্ষতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সেচ প্রকল্পের মালিক ও সাধারণ কৃষকরা ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ড্রাম ও বোতল নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছেন না। জয়মঙ্গল এলাকার সেচ প্রকল্প মালিক তৈয়ব আলী ও কৃষক মোহাম্মদ মানিক জানান, তেল সংকট ধান চাষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাদের ভাষায়, তেল না পেলে কয়েক দিনের মধ্যেই পুরো ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। এতে কৃষকের বিনিয়োগ হারানোর পাশাপাশি ঋণের বোঝাও বেড়ে যাবে, যা তাদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে।
এদিকে এই সংকটকে পুঁজি করে অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকলেও গ্রাম পর্যায়ে বেশি দামে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তেল সংকট ধান উৎপাদনের খরচ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে জ্বালানি সংকট, অন্যদিকে অতিরিক্ত মূল্য—এই দ্বিমুখী চাপে প্রান্তিক কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং অনেকেই চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা হারাচ্ছেন।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত এই সংকট সমাধান করা না গেলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান উৎপাদন সম্ভব হবে না। চলমান তেল সংকট ধান সরবরাহ ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করতে পারে, যার ফলে ভবিষ্যতে চালের বাজারে অস্থিরতা ও মূল্য বৃদ্ধি দেখা দিতে পারে। এটি শুধু কৃষকের সমস্যা নয়, বরং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
কৃষক ও সেচ প্রকল্প মালিকদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে দোহার-নবাবগঞ্জ অঞ্চলে ডিজেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তারা বলছেন, এই তেল সংকট ধান উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়। সময়মতো সেচ নিশ্চিত করা না গেলে পুরো অঞ্চলে ধানের উৎপাদনে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
আরোও পড়ুন - দোহারে প্রশাসনের উদ্যোগে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ বরণে বর্ণিল শোভাযাত্রা