
নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি: নাহিদ হাসান
দেশজ পাটশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার সারাদেশের বন্ধ জুটমিল চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নরসিংদীর পলাশ উপজেলার কো-অপারেটিভ জুটমিল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে যাওয়া সব জুটমিল পুনরায় চালুর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে পাটশিল্পের ঐতিহ্য রয়েছে। কিন্তু নানা কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তাই বন্ধ জুটমিল চালু করে আবারও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এসব মিল চালু করা হবে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে নানা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
নরসিংদীর দুটি জুটমিলসহ দেশের অন্যান্য বন্ধ মিলগুলো পর্যায়ক্রমে চালুর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, শিল্পখাতকে টেকসই করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরি করা হবে। বিশেষ করে পাটজাত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, “বর্তমান বিশ্ববাজারে পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বাড়ছে, যা পাটশিল্পের জন্য বড় সুযোগ। এই সুযোগ কাজে লাগাতে বন্ধ জুটমিল চালু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত সময়ে নীতিগত দুর্বলতা ও ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেক জুটমিল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে হাজার হাজার শ্রমিক জীবিকা হারান। বর্তমান সরকার জনগণের সরকার হিসেবে তাদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। বন্ধ জুটমিল চালু হলে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হবে এবং নতুন করে শিল্পাঞ্চলগুলোতে প্রাণ ফিরে আসবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার, মুখ্য পরিচালন কর্মকর্তা মামনুর রশিদ এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুব্রত সিকদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা কারখানার বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করেন এবং দ্রুত উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করার সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়োপযোগী পরিকল্পনা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বন্ধ জুটমিল চালু করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে পাটশিল্পকে ঘিরে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের শিল্পখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আরোও পড়ুন - নরসিংদীতে ট্রেন দুর্ঘটনায় দিনমজুর নিহত