
শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টারঃ
ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় দোহারে এসএসসি পরীক্ষা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের এই পরীক্ষার প্রথম দিনেই সার্বিক পরিস্থিতি ছিল সন্তোষজনক। দেশের অন্যান্য স্থানের মতোই দোহারেও সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত একটানা বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি, প্রশাসনের নজরদারি এবং অভিভাবকদের সহযোগিতায় প্রথম দিনের পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে দোহারে এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রের চারপাশে ২০০ গজ এলাকাজুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়, যাতে কোনো বহিরাগত ব্যক্তি প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি চালিয়ে যান, যার ফলে পরীক্ষার পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ।
সরেজমিনে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে শত শত অভিভাবক তাদের সন্তানদের পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দিয়ে বাইরে অপেক্ষা করছেন। কেউ রাস্তার পাশে বসে ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠ করছেন, আবার কেউ গাছের ছায়ায় বসে সন্তানের জন্য দোয়া করছেন। অনেক অভিভাবক জানান, সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য এই পরীক্ষাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তারা কষ্ট সহ্য করেও পাশে থাকতে চান। যদিও তীব্র গরমের কারণে কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, তবুও সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, দোহারে এসএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে মোট ৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২০৬৭ জন। এর মধ্যে প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ২০৩৯ জন শিক্ষার্থী এবং অনুপস্থিত ছিল ২৮ জন। উপস্থিতির এই হারকে সন্তোষজনক হিসেবে বিবেচনা করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের আগ্রহ এবং অভিভাবকদের সচেতনতার কারণে উপস্থিতির হার ভালো হয়েছে।
কেন্দ্রভিত্তিক উপস্থিতির চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে মোট ৪৯৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল ৪৮৮ জন এবং অনুপস্থিত ৭ জন। বেগম আয়েশা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মোট ৪৮৭ জনের মধ্যে ৪৭৮ জন উপস্থিত এবং ৯ জন অনুপস্থিত ছিল। মালিকান্দা মেঘুলা স্কুল ও কলেজে ৫০১ জনের মধ্যে ৪৯৯ জন উপস্থিত এবং ২ জন অনুপস্থিত ছিল। মুকসুদপুর শামসুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৪২ জনের মধ্যে ৩৩৫ জন উপস্থিত এবং ৭ জন অনুপস্থিত ছিল।
এছাড়া জয়পাড়া মাহমুদিয়া আলিম মাদ্রাসায় মোট ৬৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৫ জন উপস্থিত এবং ১ জন অনুপস্থিত ছিল। জয়পাড়া টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে মোট ১৭৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭৪ জন উপস্থিত এবং ২ জন অনুপস্থিত ছিল। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায় যে, দোহারে এসএসসি পরীক্ষা-তে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের হার ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক, যা সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি ভালো দৃষ্টান্ত।
দোহার উপজেলার সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাম্মী আকতার নাসরিন জানান, প্রথম দিনের পরীক্ষা অত্যন্ত আনন্দদায়ক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে পরীক্ষার পরিবেশ সুশৃঙ্খল রাখা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ করে যাচ্ছেন।
শিক্ষার্থীদের অনেকেই জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র তুলনামূলক সহজ ও মানসম্মত ছিল, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। পরীক্ষার আগে তারা কিছুটা উদ্বিগ্ন থাকলেও পরীক্ষার পরিবেশ দেখে স্বস্তি পেয়েছেন। অনেক শিক্ষার্থী আশা প্রকাশ করেছেন যে, পরবর্তী পরীক্ষাগুলোও একইভাবে ভালো পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। অভিভাবকরাও প্রশাসনের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের পরিবেশ বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা এবং শিক্ষক-অভিভাবকদের সম্মিলিত সহযোগিতায় দোহারে এসএসসি পরীক্ষা-এর বাকি দিনগুলোও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে। পরীক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে এবং তাদের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরোও পড়ুন - মোরেলগঞ্জে তীব্র গরমে শিক্ষার্থী অসুস্থ, এসএসসি কেন্দ্রে চিকিৎসার পর পরীক্ষা