
সারোয়ার আলম রিজন,হাবিপ্রবি (দিনাজপুর)
দিনাজপুরের উত্তর গোসাইপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ “পুষ্টিবন্ধু প্রজেক্ট” পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। ২২ এপ্রিল (বুধবার) SAF-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই পরিদর্শন কর্মসূচিতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অংশগ্রহণে পুরো কার্যক্রমটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষা, পুষ্টি ও সামাজিক উন্নয়নের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পুরো কার্যক্রম জুড়ে বারবার আলোচনায় উঠে আসে পুষ্টিবন্ধু প্রজেক্ট, যা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বাস্তবায়িত একটি টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ।
গত তিন মাস ধরে হাবিপ্রবির শিক্ষার্থী রাহী, ফাইজ, ওয়াহিদ, মুমু, রেজাউল, নেহাল ও বাধনের নেতৃত্বে পুষ্টিবন্ধু প্রজেক্ট পরিচালিত হচ্ছে। GAIN এবং SUN Youth Network-এর ফুড সিস্টেম ইয়ুথ লিডারশিপ ট্রেনিং গ্রহণের পর তারা নিজস্ব উদ্যোগে এই প্রকল্প শুরু করেন। পরবর্তীতে SAF-এর সহযোগিতায় প্রকল্পটি আরও বিস্তৃত ও গতিশীল হয়। এই পর্যায়ে পুষ্টিবন্ধু প্রজেক্ট শুধু একটি শিক্ষার্থী উদ্যোগ নয়, বরং একটি মডেল সামাজিক পরিবর্তনের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি দলের মধ্যে ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব লাউসানের সায়েন্টিফিক প্রজেক্ট ম্যানেজার সোফি ভ্যান ডেন বার্গ, সুইজারল্যান্ড ট্রপেন-এর প্রজেক্ট ম্যানেজার কর্নেলিয়া স্পাইচ এবং ইএসডিও-এর প্রতিনিধিবৃন্দ। তারা বিদ্যালয়ের পুষ্টিবাগান, পুষ্টি ক্লাব এবং চলমান ক্যান্টিন স্থাপনের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। প্রতিনিধি দল শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং পুষ্টিবন্ধু প্রজেক্ট ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
প্রকল্পের অন্যতম উদ্যোক্তা মোহাম্মদ ফাইজ জানান, “আমরা চেয়েছি শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, বাস্তব জীবনে পুষ্টি সচেতনতা তৈরি করতে। পুষ্টিবন্ধু প্রজেক্ট আমাদের সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি প্ল্যাটফর্ম। আন্তর্জাতিক অতিথিদের উপস্থিতি আমাদের কাজের গতি ও অনুপ্রেরণা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।” তার এই বক্তব্যে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও সামাজিক প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করছে।
এই উদ্যোগে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন সংগঠনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তারা মনে করেন, পুষ্টিবন্ধু প্রজেক্ট শুধু একটি স্কুলভিত্তিক কার্যক্রম নয়, বরং এটি গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পুষ্টি বাগান, ক্লাব কার্যক্রম ও ক্যান্টিন পরিকল্পনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সরাসরি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছে, যা ভবিষ্যতে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
স্থানীয় পর্যায়ে এই পুষ্টিবন্ধু প্রজেক্ট ইতোমধ্যে একটি সফল মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এই ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করা যায়, তবে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সচেতনতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি দলের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এই প্রকল্পের গুরুত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং ভবিষ্যতে এর সম্প্রসারণের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করেছে।
আরোও পড়ুন - হাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি নির্বাচন: তালহা সভাপতি, রাফিউল সম্পাদক