
মোস্তফা কামাল জয়,হালুয়াঘাট প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে গিয়ে আটক হয়ে কারাভোগকালে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ ১৯ মাস পর তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই হালুয়াঘাট সীমান্ত মৃত্যু ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও সীমান্ত দিয়ে দুই দেশের কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
মৃত যুবকের নাম শিপন হাওলাদার (৩৫)। তিনি বরগুনা জেলা সদরের সবেজ হাওলাদারের ছেলে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জীবিকার সন্ধানে প্রায় ১৯ মাস আগে শিপন হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। তবে সীমান্ত অতিক্রমের পরপরই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাকে আটক করে এবং পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দিয়ে তুরা কারাগারে পাঠানো হয়।
কারাগারে থাকা অবস্থায় শিপনের শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে অবনতি হতে থাকে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। গত ১৬ এপ্রিল হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে। এই হালুয়াঘাট সীমান্ত মৃত্যু ঘটনাটি পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এনেছে এবং সীমান্ত এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
পরিবার জানায়, আগামী ২৮ এপ্রিল তার কারাভোগের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। মুক্তির মাত্র কয়েকদিন আগে তার মৃত্যু হওয়ায় ঘটনাটি আরও মর্মান্তিক হয়ে ওঠে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এই হালুয়াঘাট সীমান্ত মৃত্যু সীমান্ত পারাপারের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
মরদেহ হস্তান্তরের সময় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্থানীয়দের অনেকেই ঘটনাস্থলে ভিড় করেন এবং শোক প্রকাশ করেন।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পারাপারের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। জীবিকার সন্ধানে মানুষ ঝুঁকি নিলেও এর ভয়াবহ পরিণতি অনেকেই বুঝতে পারেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের হালুয়াঘাট সীমান্ত মৃত্যু রোধে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, বিদেশে আটক ব্যক্তিদের মানবিক অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারাগারে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও নিরাপত্তা না থাকলে এ ধরনের মৃত্যু ঘটতে পারে। তাই দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা উচিত।
সবশেষে, শিপন হাওলাদারের এই মৃত্যু সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত মানুষের জন্য একটি সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের ঝুঁকি এবং এর পরিণতি সম্পর্কে সচেতন হওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি। এই হালুয়াঘাট সীমান্ত মৃত্যু ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে থাকবে।
আরোও পড়ুন - হালুয়াঘাটে ১২ বছরের শাওনের সংগ্রাম: বাবার চিকিৎসায় নিঃস্ব পরিবার