
মোঃ ইয়াছিন আলী সামু | জুড়ী উপজেলা প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত মুক্তাদির স্মৃতি টুর্নামেন্ট। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) সকাল থেকেই জুড়ী উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ ভরে ওঠে দর্শক, খেলোয়াড় এবং ক্রীড়াপ্রেমীদের পদচারণায়। “মরহুম আব্দুল মুক্তাদির চেয়ারম্যান স্মৃতি আমন্ত্রণমূলক ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬” উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ছিল বর্ণাঢ্য ও প্রাণবন্ত। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজন জুড়ীর ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে প্রাণ ফিরিয়ে এনেছে, যা তরুণ সমাজের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতি, জুড়ী-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই মুক্তাদির স্মৃতি টুর্নামেন্ট-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, এটি একটি শক্তিশালী সামাজিক মাধ্যম, যা যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।” বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুসফিকিন নূর, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবরিনা আক্তার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিনহাজ উদ্দিন এবং জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এম.এ মুহিত।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জুড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মাছুম রেজা। তিনি বলেন, গ্রামীণ পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার ঘটাতে এবং নতুন প্রজন্মকে সুস্থ ধারায় রাখতে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর। বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের জন্য বিকল্প বিনোদনের অভাব রয়েছে, ফলে তারা নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। সেই প্রেক্ষাপটে মুক্তাদির স্মৃতি টুর্নামেন্ট একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ, যা সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রথম ম্যাচ মাঠে গড়ায়, যেখানে দুই দলের খেলোয়াড়রা দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারফরম্যান্স উপহার দেন। দর্শকদের করতালি, উল্লাস এবং বাঁশির শব্দে পুরো স্টেডিয়াম মুখরিত হয়ে ওঠে। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টুর্নামেন্টে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকা থেকে একাধিক শক্তিশালী দল অংশগ্রহণ করছে। এতে করে প্রতিযোগিতার মান যেমন বেড়েছে, তেমনি দর্শকদের আগ্রহও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মাঠের পরিবেশ সুন্দর রাখতে স্বেচ্ছাসেবক দল কাজ করছে এবং দর্শকদের জন্য বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তারা আরও জানান, প্রতিটি ম্যাচ নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে এবং ফাইনাল ম্যাচটি আরও বড় আয়োজনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। এতে করে মুক্তাদির স্মৃতি টুর্নামেন্ট স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের টুর্নামেন্ট শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি একটি সামাজিক আন্দোলন, যা তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে। অনেকেই মনে করেন, এখান থেকেই ভবিষ্যতের প্রতিভাবান ফুটবলার উঠে আসতে পারে, যারা জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করবে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে মুক্তাদির স্মৃতি টুর্নামেন্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সবশেষে আয়োজক কমিটি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, স্পন্সর এবং ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। তারা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এবং সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
আরোও পড়ুন - নবীনগর রসুল্লাবাদে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি কেরাম বোর্ড টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত