
শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকার দোহার উপজেলায় কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ কাজের মধ্য দিয়ে নতুন এক ইতিহাসের সূচনা হলো। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে এই প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন ও ফলক উন্মোচন করেন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাঈদুল ইসলাম। “ভোটের হিসাব” সামনে রেখে দেওয়া তার রাজনৈতিক বক্তব্যও অনুষ্ঠানে নতুন মাত্রা যোগ করে। দোহার পৌরসভার তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত এই প্রকল্প স্থানীয় উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে উপজেলা চত্বর পরিদর্শন করেন অতিথিরা। এ সময় এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এমপি আবু আশফাক সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে “ভোটের হিসাব” প্রসঙ্গে কড়া মন্তব্য করেন। তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় বলেন, একটি রাজনৈতিক দল নানা কৌশল অবলম্বন করে রাজপথের ভয় দেখিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে তাদের মনে রাখা উচিত, বিগত নির্বাচনে তারা বিএনপির ওপর নির্ভর করেই সীমিত কিছু আসন পেয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল, যা দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে। “ভোটের হিসাব” ভুলে গিয়ে কেউ যদি কৌশল বা ভয় দেখিয়ে ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখে, তবে তা বাস্তবসম্মত নয়। জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস এবং জনগণের ভোটই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে—এমন মন্তব্য করে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সতর্ক বার্তা দেন।
উন্নয়ন প্রসঙ্গে এমপি আশফাক বলেন, দোহারে চলমান বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকাকে আধুনিক ও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলা হচ্ছে। এই স্মৃতিসৌধ নির্মাণ দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি জানান, উন্নয়নের পাশাপাশি “ভোটের হিসাব” মাথায় রেখে জনগণের আস্থা অর্জন করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
এদিকে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। দোহারে কোনো ধরনের অপরাধ কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না জানিয়ে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন। অবৈধ বালু উত্তোলন, মাদক ব্যবসা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে। তিনি বলেন, দোহারের মাটিকে অপরাধমুক্ত রাখতে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল হাসেম বেপারী, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, পুলিশ প্রশাসনের সদস্য এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। তাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এই আয়োজনকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।
স্থানীয় বাসিন্দারা স্মৃতিসৌধ নির্মাণ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দোহারে এমন একটি স্মৃতিচিহ্নের অভাব ছিল, যা নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসের সঙ্গে সংযুক্ত করবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই অভাব পূরণ হতে যাচ্ছে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সব মিলিয়ে দোহারে স্মৃতিসৌধ উদ্বোধনের এই আয়োজন শুধুমাত্র একটি উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তা ও “ভোটের হিসাব” ঘিরে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় রাজনীতি ও উন্নয়নের সমন্বয়ে এই অনুষ্ঠান দোহারের মানুষের কাছে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।