
নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি: নাহিদ হাসান
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রায়পুরা থানা ও বাঁশগাড়ী তদন্ত কেন্দ্রের যৌথ টিম চরাঞ্চল এলাকায় টহল কার্যক্রম চালানোর সময় জানতে পারে, চরমেঘনা গ্রামের একটি বাড়িতে অবৈধ অস্ত্র মজুত রয়েছে। পরে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিয়মিত টহলের সময় তথ্য আসে যে সন্দেহভাজন রাকিব ওরফে এ্যাংকা তার পৈত্রিক বাড়িতে অবস্থান করছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে দ্রুত অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে রাত ১২টা ২০ মিনিটে বাড়িটি ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। এ সময় অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে রাকিবকে আটক করা হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে বসতঘরের খাটিয়ার নিচে প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে তিনটি ওয়ান শুটারগান, চারটি পিতলের বুলেট এবং তিনটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া এসব সরঞ্জাম অপরাধ কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের আশঙ্কা ছিল বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ঠেকাতে এই অস্ত্র উদ্ধার অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার রাকিব ওরফে এ্যাংকার বিরুদ্ধে আগে থেকেই অস্ত্র মামলাসহ মোট ৯টি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তার গ্রেপ্তারের ফলে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে অস্ত্র উদ্ধার ঘটনায় অপরাধচক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে।
নরসিংদী জেলা পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাস, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। রায়পুরার ঘটনাতেও অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস অনুসন্ধান করা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে। সর্বশেষ এই অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
আরোও পড়ুন - দক্ষিণ মনিকুড়ায় মাদকবিরোধী পোস্টকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র হামলা, দুই ভাই আহত