
মোঃ সাইফুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টারঃ
আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নে ভূমি কর্মকর্তা রোকনের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়ানো অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সচেতন মহল দাবি করেছেন, বিষয়টি একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য ছড়ানো হচ্ছে। এই ঘটনায় এলাকাবাসী তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূমি কর্মকর্তা রোকন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভূমি সেবা প্রদান করে আসছেন। অভিযোগকারীরা কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন না করেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির ইঙ্গিত দিয়েছে বলে জানা যায়। তবে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সেবা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করছেন। ফলে হঠাৎ করে এমন অভিযোগকে অনেকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় সচেতন মহলের একাংশ মনে করেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে ব্যর্থ হয়ে ভূমি কর্মকর্তা রোকন-এর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়াচ্ছে। তারা দাবি করেন, কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই সামাজিক মাধ্যমে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তারা আরও বলেন, প্রশাসনিক নিয়ম উপেক্ষা করে এ ধরনের অপপ্রচার শুধু ব্যক্তির নয়, পুরো সরকারি ব্যবস্থার ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “আমি সবসময় সরকারি বিধি-বিধান মেনে সেবা দিয়ে আসছি। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।” তিনি এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন। তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে যে, তিনি নিজের অবস্থানকে স্বচ্ছ বলে দাবি করছেন।
এলাকার একাধিক ইউপি সদস্য ও সাধারণ সেবাগ্রহীতারা জানান, ভূমি কর্মকর্তা রোকন সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক। তারা বলেন, সেবা নিতে এসে কখনো কোনো ধরনের হয়রানির সম্মুখীন হননি। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও জানান, একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে, তবে সেটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। ফলে পুরো ঘটনাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা এখন প্রশাসনিক পর্যায়ে নজরদারিতে রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা হোক এবং কোনো ধরনের ভিত্তিহীন তথ্যের মাধ্যমে কারও সম্মানহানি না ঘটে সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসনও বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছে।
আরোও পড়ুন - মাইলস্টোন কলেজের ভাইস প্রিন্সিপালকে ঘিরে অপপ্রচার: ক্ষিপ্ত সাধারণ শিক্ষার্থী