
কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় সংঘবদ্ধ ভূমিদস্যু দখল চক্রের কবলে পড়ে সাত বছর ধরে নিজ বাড়ি ছাড়া জীবন কাটাচ্ছেন এক বৃদ্ধ। ভুক্তভোগী মোঃ মহির উদ্দিন (৬১) অভিযোগ করেছেন, তার মায়ের পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া বসতভিটা স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। বারবার স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেও তিনি জমি ফেরত পাননি। উল্টো জমি চাইতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অসহায় পরিবারটি এখন প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নেওয়াশী ইউনিয়নের ব্যাঙদোলার পাড় গ্রামের বাসিন্দা মহির উদ্দিন তার মায়ের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ২৬ শতক জমির অংশীদার। ওই জমির মধ্যে ১ দশমিক ৫ শতক জমিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বসতঘর নির্মাণ করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। স্থানীয়ভাবে জমিটির কাগজপত্র, এসএ খতিয়ান ও দাগ নম্বরও রয়েছে বলে জানান তিনি। কিন্তু প্রায় সাত বছর আগে তিনি ব্যক্তিগত কাজে বাড়ির বাইরে থাকার সুযোগে সংঘবদ্ধ একটি ভূমিদস্যু দখল চক্র তার বাড়িতে হামলা চালায়।
ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে ঢুকে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর ও লুটপাট করে। পরে পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে তারা পুরো ভিটেমাটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে দেয়। ঘটনাটির পর পরিবারটি নিরাপত্তার অভাবে অন্যত্র আশ্রয় নেয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আজও নিজ ভিটায় ফিরতে পারেননি মহির উদ্দিন। এতে পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে জানা গেছে।
মহির উদ্দিন বলেন, তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মুরুব্বি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। একাধিকবার সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্তরা উপস্থিত হয়নি কিংবা সময় নিয়ে পরে আর যোগাযোগ করেনি। বারবার জমি ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি তারা। ভুক্তভোগীর ভাষ্য, বৈধ কাগজপত্র দেখানোর পরও প্রভাবশালী মহল পেশিশক্তির কারণে বিষয়টি উপেক্ষা করে যাচ্ছে।
গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তিনি কয়েকজন সাক্ষী ও স্থানীয় ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে আবারও নিজের ভিটায় যান। সেখানে গিয়ে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে অভিযুক্তরা তাকে গালিগালাজ করে এবং প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মহির উদ্দিন জানান, তাদের একজন বলেন— জমির কথা তুললে তাকে খুন করে গুম করা হবে। এরপর থেকেই তিনি আরও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এলাকাবাসীর একাংশ বলছেন, এমন ভূমিদস্যু দখল কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মহির উদ্দিন বলেন, আমি এখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ। কোনো শক্তি নেই, কোনো প্রভাব নেই। আমার মায়ের ভিটা ফেরত চাইতে গিয়েও অপমান আর হুমকি শুনতে হচ্ছে। আমি শুধু চাই, আইন আমাকে ন্যায়বিচার দিক। তার পরিবারের সদস্যরাও জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাড়িতে থেকে কষ্টে দিন পার করছেন তারা।
এ ঘটনায় নাগেশ্বরী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ভুক্তভোগী। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় পরিবারটির হতাশা আরও বেড়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত মালিককে জমি বুঝিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে যারা ভূমিদস্যু দখল করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
বর্তমানে মহির উদ্দিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি, অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিজের পৈত্রিক ভিটা দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দীর্ঘ সাত বছরের এই ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
আরোও পড়ুন - চিতলমারীতে দখল-লুটপাট: নারী নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ