
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি: আফজাল মিয়া
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে সিলেটের বিশ্বনাথে বর্ণাঢ্য র্যালি, সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতি প্রয়োজন। তারা দাবি করেন, শ্রমিক মুক্তি নিশ্চিত করতে ন্যায়ভিত্তিক শ্রমব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা জরুরি। শুক্রবার (১ মে) দুপুরে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন বিশ্বনাথ উপজেলা ও পৌর শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে স্থানীয় নেতাকর্মী, শ্রমজীবী মানুষ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর বলেন, মানুষের তৈরি কোনো মতবাদই সমাজের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি। তিনি বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই তার পাওনা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। এই নীতির মধ্যেই মালিক ও শ্রমিক উভয়ের কল্যাণ নিহিত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আজও বহু ক্ষেত্রে শ্রমিকরা ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই শ্রমিক মুক্তি নিশ্চিত করতে নৈতিক ও মানবিক শ্রমনীতি বাস্তবায়ন সময়ের দাবি।
তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণের মতামতকে সম্মান জানানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে মত দিয়েছেন বলে দাবি করে তিনি বলেন, সরকারকে দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। জনগণের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত দাবি আদায়ের আন্দোলন চলবে। একই সঙ্গে তিনি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলন জোরদারের আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, শ্রমিক মুক্তি কেবল স্লোগান নয়, এটি একটি বাস্তব প্রয়োজন।
বিশ্বনাথ পৌরসভা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি শাহীন আহমদ রাজুর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুল মালিকের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের আমীর ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন সিদ্দিকী, পৌর জামায়াতের আমীর এইচ এম আক্তার ফারুক, নায়েবে আমীর মাষ্টার ইমাদ উদ্দিন, আব্দুস সোবহান মেম্বার, উপজেলা সেক্রেটারি মতিউর রহমান, পৌর সেক্রেটারি মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান এবং জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের অফিস সম্পাদক আল আমীন। তারা সবাই শ্রমজীবী মানুষের সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সমাবেশের আগে একটি বিশাল র্যালি বিশ্বনাথ মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে উপজেলা সদরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে র্যালিটি বাসিয়া সেতু এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। র্যালিতে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন। পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, শ্রমিকের ঘাম ও পরিশ্রমেই দেশের অর্থনীতি সচল থাকে, তাই শ্রমিক মুক্তি ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, মে দিবস ঘিরে এমন আয়োজন শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, চিকিৎসা সুবিধা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে দেশের উৎপাদনশীলতা আরও বাড়বে। এজন্য মালিক, শ্রমিক ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য শ্রমিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে।
আরোও পড়ুন - মে দিবস রাজশাহী বোর্ডে র্যালি ও আলোচনা সভা | শ্রমের মর্যাদার বার্তা