
কক্সবাজার প্রতিনিধি: কাউছার উদ্দিন হৃদয়
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মরিচ্যা চেকপোস্টে মাদকবিরোধী অভিযানে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১ মে) সকালে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই চেকপোস্টে নিয়মিত তল্লাশি চালানোর সময় এপিবিএন সদস্য আটক করা হয়। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা সন্দেহভাজন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে তল্লাশি করলে ওই সদস্যের কাঁধে থাকা ব্যাগ থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং চেকপোস্ট এলাকায় ভিড় জমে যায়।
সূত্র জানায়, মরিচ্যা চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। সীমান্তঘেঁষা এলাকা হওয়ায় এখানে নিয়মিতভাবে বিজিবি সদস্যরা নজরদারি জোরদার রাখেন। এদিনও স্বাভাবিক তল্লাশির অংশ হিসেবে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে যাত্রীদের ব্যাগ ও মালামাল পরীক্ষা করা হচ্ছিল। এ সময় এক ব্যক্তির আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগটি পরীক্ষা করা হয়। পরে ব্যাগের ভেতরে বিশেষভাবে মোড়ানো অবস্থায় ইয়াবার চালান পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে এপিবিএন সদস্য আটক করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের কাছ থেকে এমন বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিস্ময় ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচার দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও দায়িত্বশীল বাহিনীর সদস্য জড়িত থাকার অভিযোগ নতুন করে নানা প্রশ্ন তুলেছে। অনেকে মনে করছেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হলে এর পেছনে বড় কোনো চক্রের সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে আসতে পারে। এ ঘটনায় এপিবিএন সদস্য আটক হওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইয়াবার চালান কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া ২০ হাজার ইয়াবার বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত শেষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে এপিবিএন সদস্য আটক হওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কক্সবাজার-টেকনাফ রুট দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ করিডোর হিসেবে পরিচিত। সীমান্ত এলাকা দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এজন্য নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন। মরিচ্যা চেকপোস্টে সাম্প্রতিক এই ঘটনায় আবারও প্রমাণ হলো, কঠোর নজরদারি থাকলে বড় বড় চালান আটক করা সম্ভব। স্থানীয় বাসিন্দারাও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আরোও পড়ুন - ধর্মপাশায় মাদকসেবী আটক: ইয়াবা সেবনে দুইজনের এক মাসের কারাদণ্ড