
মোঃ আলমগীর হোসাইন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে পাগল সেজে ভিক্ষা করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীনতার ভান করে বিভিন্ন হাট-বাজার ও জনবহুল এলাকায় ঘুরে মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করছে। পরে সেই অর্থ দিয়ে প্রকাশ্যে মাদকসেবনের দৃশ্যও দেখা গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এসব ব্যক্তিকে প্রায়ই বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও প্রধান সড়কের আশপাশে দেখা যায়। প্রথমে তারা অসহায় ও অসুস্থ আচরণ করে মানুষের সহানুভূতি অর্জন করে। অনেকেই মানবিক কারণে টাকা দিলেও কিছু সময় পর একই ব্যক্তিদের অস্বাভাবিক আচরণ ও নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করতে দেখা যায়। এ কারণে নাগেশ্বরীতে পাগল সেজে ভিক্ষা বিষয়টি এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান, এ ধরনের ঘটনার কারণে বাজারের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। কেউ দোকানের সামনে এসে জোর করে টাকা চায়, আবার কেউ অস্বাভাবিক আচরণ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এতে নারী ও শিশুদের চলাফেরায়ও অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।
সচেতন মহল মনে করছে, প্রকৃত অসহায় ও মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষদের সাহায্য করা মানবিক দায়িত্ব হলেও সেই সুযোগকে ব্যবহার করে প্রতারণা ও মাদকসেবন সমাজের জন্য হুমকি। তারা বলছেন, নাগেশ্বরীতে পাগল সেজে ভিক্ষা বন্ধে নিয়মিত অভিযান, পরিচয় যাচাই এবং সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি তারা গুরুত্ব সহকারে দেখছে। অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি জনসমাগম এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর কথাও জানানো হয়েছে। তবে স্থানীয়রা দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ চান।
বিশ্লেষকদের মতে, ভিক্ষাবৃত্তির আড়ালে প্রতারণা ও মাদকসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড বাড়লে সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে। তাই এখনই ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এজন্য নাগেশ্বরীতে পাগল সেজে ভিক্ষা রোধে প্রশাসন ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
আরোও পড়ুন - নাগেশ্বরীতে ভূমিদস্যু দখল, ৭ বছর ধরে ঘরছাড়া বৃদ্ধের পৈত্রিক ভিটা