
মিজানুর রহমান (লাভলু) সিলেটঃ
সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা কানাইঘাটে আবারও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য পেয়েছে থানা পুলিশ। কানাইঘাট কম্বল আটক অভিযানে একটি ট্রাক থেকে ১৫৮ পিস ভারতীয় কম্বল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ট্রাকের চালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (২ মে) ভোররাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের গাজী বোরহান উদ্দিন সড়কের উমাগড় বড় মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সীমান্তপথে অবৈধ পণ্য পরিবহন ঠেকাতে পুলিশের এমন তৎপরতা স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কানাইঘাট থানার এসআই শৈলেশ চন্দ্রের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে সন্দেহভাজন একটি ট্রাক থামিয়ে তল্লাশি চালানো হলে বস্তায় মোড়ানো অবস্থায় ভারতীয় কম্বল পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাকটি জব্দ করা হয় এবং কানাইঘাট কম্বল আটক ঘটনায় ট্রাকচালক মোঃ ওলি বয়াতী (৩৩)কে আটক করা হয়। তিনি পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার কপালপাড়া গ্রামের লতিফ বয়াতীর ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার হওয়া কম্বলগুলো জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর সীমান্ত এলাকা থেকে কানাইঘাটে আনা হচ্ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চালক কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এর সঙ্গে জড়িত মূল চোরাচালান সিন্ডিকেট সদস্যদের শনাক্তে কাজ চলছে। কানাইঘাট কম্বল আটক ঘটনায় জড়িত অন্যদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান জোরদার করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে কানাইঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্ত দিয়ে আবারও চোরাচালান বেড়ে গেছে। রাতের আঁধারে বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে ভারতীয় জিরা, মসলা, চা পাতা, চিনি, থ্রি-পিস, কম্বল, প্রসাধনী, মোবাইল সেটসহ নানা পণ্য দেশে প্রবেশ করছে। এসব কারণে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে। একই সঙ্গে বৈধ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। কানাইঘাট কম্বল আটক অভিযানকে তারা ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।
কানাইঘাট থানার দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। বিজিবি, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, চোরাচালান বন্ধে স্থানীয় জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। কারণ অনেক সময় অসাধু চক্র সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করে অবৈধ পণ্য পরিবহন করে থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে টেকসই নজরদারি, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানো গেলে চোরাচালান অনেকাংশে কমানো সম্ভব। প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে অপরাধচক্রে চাপ সৃষ্টি হলেও তারা নতুন কৌশল নিচ্ছে। ফলে কানাইঘাট কম্বল আটক এর মতো অভিযান নিয়মিত চালিয়ে যেতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধারকৃত পণ্য জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সীমান্ত এলাকায় অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
আরোও পড়ুন - ধর্মপাশায় মাদকসেবী আটক: ইয়াবা সেবনে দুইজনের এক মাসের কারাদণ্ড