
পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে তার স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সাম্প্রতিক এই পঞ্চগড়ে স্ত্রী হত্যা ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত গৃহবধূ আরজিনা খাতুন (২৬), আর অভিযুক্ত স্বামী মনির হোসেন (২৪)। সোমবার (৪ মে) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, রোববার (৩ মে) রাতে নিহতের বাবা জালাল উদ্দীন বাদী হয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মনির হোসেনকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। তিনি শালবাহান ইউনিয়নের শানুবালাবাড়ি গ্রামের শাহাজালালের ছেলে। এই পঞ্চগড়ে স্ত্রী হত্যা মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে রণচণ্ডী গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দীনের মেয়ে আরজিনা খাতুনের সঙ্গে মনির হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে কলহ ও মতবিরোধ লেগেই ছিল। পারিবারিক অশান্তি ধীরে ধীরে সহিংসতায় রূপ নেয়। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের এই বিরোধই শেষ পর্যন্ত পঞ্চগড়ে স্ত্রী হত্যা এর মতো মর্মান্তিক ঘটনার দিকে নিয়ে যায়।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে মনির হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে আরজিনাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে গুরুতর আহত হয়ে আরজিনা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে প্রথমে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কিন্তু রংপুর নেওয়ার পথে ঠাকুরগাঁও এলাকায় রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আরজিনা খাতুনের মৃত্যু হয়। এই পঞ্চগড়ে স্ত্রী হত্যা ঘটনার পর পরিবারে শোকের মাতম নেমে আসে এবং এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। নিহতের স্বজনরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক কলহজনিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা হবে। এই পঞ্চগড়ে স্ত্রী হত্যা মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। এমন ঘটনা রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগও প্রয়োজন বলে তারা মত দিয়েছেন।
আরোও পড়ুন - মামলা না উঠানো জের ধরে হালুয়াঘাটে চাচাকে মারধর, এলাকায় চাঞ্চল্য