
এস কে সামিউল ইসলাম, মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক মহাসড়কে হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। সোমবার (৪ মে) সকাল থেকেই মেহেরপুর চুয়াডাঙ্গা বাস বন্ধ থাকায় মেহেরপুর থেকে চুয়াডাঙ্গাগামী কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তঃজেলা রুটে পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীদের পড়তে হয়েছে সীমাহীন ভোগান্তিতে। বিকল্প পরিবহনের অভাবে অনেকেই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ছোট যানবাহনে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।
পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক হলেও কোনো সমাধান না আসায় রাতেই ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শ্রমিক নেতারা জানান, নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা এ কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ফলে সোমবার সকাল থেকে কার্যত অচল হয়ে পড়ে পুরো রুট, এবং মেহেরপুর চুয়াডাঙ্গা বাস বন্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।
মেহেরপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আহসান হাবীব সোনা জানান, রোববার দুপুরে মেহেরপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া ‘গোল্ডেন ট্রাভেলস’ নামের একটি বাস আমঝুপি এলাকায় পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেলকে ওভারটেক করা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ সময় মোটরসাইকেল আরোহী রাব্বি বাসের চালক সোহেল রানা ও সুপারভাইজারকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার প্রতিবাদেই শ্রমিকরা তাৎক্ষণিকভাবে মেহেরপুর চুয়াডাঙ্গা বাস বন্ধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ ধর্মঘট চলবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। এদিকে ঘটনার পর থেকে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
মেহেরপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে আবারও আলোচনায় বসার চেষ্টা চলছে। তবে দ্রুত কোনো সমাধান না এলে জেলার অন্যান্য আন্তঃজেলা রুটেও বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এমনকি প্রয়োজনে দূরপাল্লার পরিবহন বন্ধের মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এতে করে মেহেরপুর চুয়াডাঙ্গা বাস বন্ধ ইস্যু পুরো অঞ্চলের পরিবহন ব্যবস্থাকে অচল করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে যাত্রীরা বলছেন, হঠাৎ করে বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের ভোগান্তির শেষ নেই। কেউ জরুরি কাজে, কেউ চিকিৎসার জন্য আবার কেউ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েও মাঝপথে আটকে পড়েছেন। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে পরিবহন চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।