
বিশেষ প্রতিনিধি, কামরুল ইসলামঃ
কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের উখিয়ার শীলখালী চেকপোস্টে নিয়মিত তল্লাশির অংশ হিসেবে পরিচালিত অভিযানে আবারও বড় সাফল্য পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সর্বশেষ উখিয়ায় মদ উদ্ধার অভিযানে একটি যাত্রীবাহী প্রাইভেটকার থেকে ৪৪ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এমন তৎপরতা স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আটককৃত ব্যক্তি মোঃ মোস্তফা (৩৪), তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি থানার বিটিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম মৃত মুক্তার উদ্দিন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ পণ্য পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক এই উখিয়ায় মদ উদ্ধার ঘটনাটি তার চোরাচালান কার্যক্রমের একটি অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা নিয়ে ইতোমধ্যে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার (৪ মে ২০২৬) সকাল আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে কক্সবাজার থেকে টেকনাফগামী একটি প্রাইভেটকার শীলখালী চেকপোস্টে পৌঁছালে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় পেছনের সিটে বসে থাকা এক যাত্রীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তার বহন করা ট্রলিব্যাগ তল্লাশি করে বিদেশি মদের বোতলগুলো উদ্ধার করা হয়। এই উখিয়ায় মদ উদ্ধার অভিযানে একটি বাটন মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে, যা চোরাচালান কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক মোস্তফা স্বীকার করেছেন যে, তিনি কক্সবাজার এলাকা থেকে এসব বিদেশি মদ সংগ্রহ করে অধিক দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে টেকনাফে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানকারীদের জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তাই উখিয়ায় মদ উদ্ধার অভিযানের মতো নিয়মিত তল্লাশি এই অবৈধ নেটওয়ার্ক ভাঙতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ জহিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং তাকে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও উখিয়ায় মদ উদ্ধারসহ এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নিয়মিত অভিযান ও তথ্যভিত্তিক নজরদারির মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবৈধ বাণিজ্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে সফলতা অর্জন করে আসছে। সাম্প্রতিক উখিয়ায় মদ উদ্ধার ঘটনাও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা সীমান্তে অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন।
আরোও পড়ুন - অস্ত্র উদ্ধার: রায়পুরায় চরমেঘনায় অভিযান, রাকিব গ্রেপ্তার