
মো: রাজ হাওলাদার, (মোংলা প্রতিনিধি)
সুন্দরবনের ঢাংমারী এলাকায় একটি পর্যটকবাহী রিসোর্টে সংঘটিত সুন্দরবনে ডাকাতি চেষ্টার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গভীর রাতে সংঘবদ্ধ দুষ্কৃতকারীরা রিসোর্টে প্রবেশ করে পর্যটকদের লক্ষ্য করে হামলা ও লুটপাটের পরিকল্পনা করলেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়। এ ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয় কোস্ট গার্ড, এবং বিশেষ অভিযানে জড়িত দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (৪ মে) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে খুলনার দাকোপ থানার ঢাংমারী খাল সংলগ্ন ‘সুন্দরী ইকো রিসোর্টে’ একদল দুষ্কৃতকারী জানালার গ্রিল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল পর্যটকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মালামাল লুট করা। তবে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এতে করে দুষ্কৃতকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যায় এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পায় রিসোর্টটি।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি কোস্ট গার্ডকে জানানো হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। পরে মোংলা কোস্ট গার্ড বেইসের একটি দল ঢাংমারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুন্দরবনে ডাকাতি চেষ্টায় সরাসরি জড়িত দুই ব্যক্তিকে আটক করে। এই অভিযানে স্থানীয় প্রশাসনেরও সহায়তা ছিল বলে জানা গেছে।
আটককৃতদের পরিচয় পাওয়া গেছে রাজন সরদার (২৫) এবং রতন সরদার (১৪) হিসেবে। তারা উভয়েই খুলনার দাকোপ উপজেলার বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সুন্দরবনে ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সুন্দরবন ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কোস্ট গার্ড নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান জোরদার করা হবে।
স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনে পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। তবে এর পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাতে রিসোর্টগুলোতে নিরাপত্তা প্রহরী, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই সুন্দরবনে ডাকাতি চেষ্টার ঘটনা সংশ্লিষ্টদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এদিকে প্রশাসন বলছে, সুন্দরবনের মতো সংরক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে টহল জোরদার করেছে এবং সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
আরোও পড়ুন - মোংলায় র্যাব অভিযান: অবৈধ তেলের গোডাউনে জরিমানা ১.২৫ লাখ