
আসাদুজ্জামান, (কুড়িগ্রাম )
কুড়িগ্রামের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশে নারীর নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে “নির্বাচনী সহিংসতা প্রতিরোধ” বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে সদর উপজেলার জামান ইন হোটেল অ্যান্ড সুইটসের হলরুমে আয়োজিত এ সভায় বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি ও নারী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল নারীর প্রতি রাজনৈতিক সহিংসতা কমানো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা। বক্তারা মনে করেন, “নির্বাচনী সহিংসতা প্রতিরোধ” শুধু আইন দিয়ে নয়, সামাজিক সচেতনতা দিয়েও নিশ্চিত করতে হবে।
দিনব্যাপী এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয় “জেন্ডার-সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্তগ্রহণ কাঠামো শক্তিশালীকরণ” প্রকল্পের আওতায়। একশনএইড বাংলাদেশ ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নারী, যুব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, “নির্বাচনী সহিংসতা প্রতিরোধ” নিশ্চিত করতে হলে পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা আরও উল্লেখ করেন, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ে।
সভায় সমাজসেবার উপপরিচালক হুমায়ুন কবির, পৌর সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জয়ন্তী রাণীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ফ্রেন্ডশিপের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী আবদুস সালাম, একশনএইডের লিড মরিয়ম নেছা এবং প্রজেক্ট ম্যানেজার শিউলি আক্তার বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, “নির্বাচনী সহিংসতা প্রতিরোধ” নিশ্চিত করতে হলে শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, বরং আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

আলোচনায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি রওশন আরা বেগম বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা কমাতে হলে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। তিনি বলেন, “নির্বাচনী সহিংসতা প্রতিরোধ” একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যা সামাজিক শিক্ষা ও সচেতনতার মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিকাশে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। অন্যান্য বক্তারাও একই সুরে বলেন, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা সম্মিলিতভাবে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন যে তারা নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে একযোগে কাজ করবেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে “নির্বাচনী সহিংসতা প্রতিরোধ” বিষয়ে আরও কার্যকর নীতিমালা ও বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরি হবে। এছাড়া নিয়মিত সংলাপ, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। আয়োজকরা জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব বৃদ্ধির জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
আরোও পড়ুন - নাগেশ্বরীতে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু