
বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার সরকারি শাহ সুলতান কলেজে (স্নাতক) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়া সহজতর করার লক্ষ্যে হেল্পডেস্ক স্থাপন করেছে কলেজ শাখা ছাত্রদল। আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হিরা ও সদস্য সচিব হোসেন সোহাগের নেতৃত্বে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত এই সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
হেল্পডেস্ক থেকে শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চিতকরণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান, বিষয় (বিভাগ) ও ক্যাম্পাস নির্বাচন নিয়ে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ, ভর্তি সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ ও সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান এবং জরুরি তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দিচ্ছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হিরা বলেন, "বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অভিভাবক, রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে - ছাত্রদলকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। তাঁর সেই নির্দেশ পালন করতেই আমরা নবীন শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছি। তারা যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্যই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। আমাদের প্রিয় নেতার স্বপ্নের মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন শিক্ষাঙ্গন গড়তে শাহ সুলতান কলেজ ছাত্রদল সবসময় রাজপথে এবং শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে।"
সদস্য সচিব হোসেন সোহাগ বলেন, "অতীতে ভর্তির সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে ভয় ও বিড়ম্বনার শিকার হতো, আমরা তার অবসান ঘটিয়ে একটি শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করেছি। এই হেল্পডেস্ক সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের ভালোবাসার প্রতিফলন। আমরা চাই শাহ সুলতান কলেজের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন ছাত্রদলকে তাদের বিপদে-আপদে সবচেয়ে কাছের বন্ধু হিসেবে পাশে পায়। বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত নতুন বাংলাদেশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।"
ছাত্রদলের কর্মীদের এমন সুশৃঙ্খল ও আন্তরিক সহযোগিতায় মুগ্ধ হয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ভর্তির জটিলতা নিরসনে ছাত্রদলের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
ভর্তি হতে আসা এক শিক্ষার্থী বলেন, "কলেজে আসার পর প্রথমে বুঝতে পারছিলাম না কোথায় যেতে হবে বা কোন কাগজ জমা দিতে হবে। ছাত্রদলের বড় ভাইয়েরা আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। তাদের পরামর্শে আমি খুব সহজেই আমার ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পেরেছি।"
ছেলের সাথে আসা এক অভিভাবক সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "নতুন জায়গায় এসে একটু দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু হেল্পডেস্কে বসা ছেলেরা খুব আন্তরিকতার সাথে আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক সংগঠনের এমন জনকল্যাণমূলক কাজ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।"
পাশাপাশি স্থানীয় সচেতন মহল ছাত্রদলের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, ছাত্র সংগঠনের এমন সেবামূলক কর্মকাণ্ড ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সহায়ক হবে। বিশেষ করে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা ছাড়াই সুশৃঙ্খলভাবে এই সেবা প্রদান করাকে তারা সাধুবাদ জানিয়েছেন।
আরোও পড়ুন - ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি স্নাতক বাধ্যতামূলক, ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল