
বিশেষ প্রতিনিধি, মো: রাশেদুল হকঃ
ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, জনগণের অর্থে পরিচালিত কোনো উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, গাফিলতি বা নিম্নমানের কাজ সহ্য করা হবে না। তিনি বলেন, জনগণের টাকায় বাস্তবায়িত প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা পরিষদকে আরও গণমুখী ও জনকল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রশাসন কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জেলা পরিষদের বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি নজরুল ডাক বাংলো, নজরুল মঞ্চ সংস্কার কাজসহ একাধিক চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ঘুরে দেখেন। প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, নির্মাণকাজের গুণগত মান এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রিন্স।
পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি বলেন, প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বশীলতার কোনো বিকল্প নেই। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার কিংবা কাজের ধীরগতির অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রমে জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হলে প্রতিটি প্রকল্পের মান নিশ্চিত করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
পরে ত্রিশালের নজরুল অডিটোরিয়ামের সভাকক্ষে উপজেলা পর্যায়ে জেলা পরিষদের বাস্তবায়নাধীন ৪১টি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে জেলা পরিষদকে আরও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। এজন্য মাঠপর্যায়ে তদারকি বৃদ্ধি, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন কার্যক্রমকে টেকসই করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ কিংবা অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণ যেন দ্রুত উন্নয়নের সুফল পায়, সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে যেকোনো অনিয়মের তথ্য জেলা পরিষদ প্রশাসনকে দ্রুত জানানোর আহ্বান জানান সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
সভায় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ কামরুল হুদা, ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক ভূঁইয়া, জেলা ও উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি জনগণের আস্থা অর্জনে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আরোও পড়ুন - মুন্সিরহাটে ব্যবসায়ী হত্যা: নিরাপত্তাহীনতার নির্মম চিত্র